ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

ঢাকায় খুন,রাতের আঁধারে ডিমলায় লাশ দাফন-২০ দিন পরে রহস্য উন্মোচন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৯ Time View

 

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: ঢাকায় রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকায় মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে কাফরুল ও ডিমলা থানা পুলিশের যৌথ দল।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মামুন মিয়া (২৩)-এর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে তাঁর বাড়ির পাশের গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে নীলফামারী জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উদ্যমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে। গ্রেপ্তার মামুন মিয়া ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকার আফসার আলীর ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল কোচিং করার সূত্রে মোবাইল ফোনে মামুন মিয়ার সঙ্গে রাকিবুলের পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিবুলকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ এলাকার ‘আঞ্জুমান সমকাল ভিলা’র একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে সেখানে তাঁকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি একটি বড় কাগজের কার্টনের ভেতর রাখা হয়। পরে কালো পলিথিন, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ও কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রিকশা ও বাসযোগে ডিমলায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মামুনের বাড়ির পাশে গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচে মরদেহটি পুঁতে রাখা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে রাকিবুল জীবিত আছেন—এমন তথ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের পক্ষ থেকে ১৩টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে রাকিবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। গত ৫ অক্টোবর কাফরুল থানায় মামলা নম্বর-০৫ হিসেবে দণ্ডবিধির ৩৪৪, ৩৬৫, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শ্যামল কুমার হালদার ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে কাফরুল থানা পুলিশের একটি দল ডিমলা থানায় গিয়ে লাশ উদ্ধারে আইনগত সহযোগিতা চায়। পরে দুই থানার সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল মামুনের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

ঢাকায় খুন,রাতের আঁধারে ডিমলায় লাশ দাফন-২০ দিন পরে রহস্য উন্মোচন

Update Time : ১১:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: ঢাকায় রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকায় মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে কাফরুল ও ডিমলা থানা পুলিশের যৌথ দল।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মামুন মিয়া (২৩)-এর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে তাঁর বাড়ির পাশের গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে নীলফামারী জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উদ্যমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে। গ্রেপ্তার মামুন মিয়া ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকার আফসার আলীর ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল কোচিং করার সূত্রে মোবাইল ফোনে মামুন মিয়ার সঙ্গে রাকিবুলের পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিবুলকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ এলাকার ‘আঞ্জুমান সমকাল ভিলা’র একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে সেখানে তাঁকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি একটি বড় কাগজের কার্টনের ভেতর রাখা হয়। পরে কালো পলিথিন, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ও কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রিকশা ও বাসযোগে ডিমলায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মামুনের বাড়ির পাশে গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচে মরদেহটি পুঁতে রাখা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে রাকিবুল জীবিত আছেন—এমন তথ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের পক্ষ থেকে ১৩টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে রাকিবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। গত ৫ অক্টোবর কাফরুল থানায় মামলা নম্বর-০৫ হিসেবে দণ্ডবিধির ৩৪৪, ৩৬৫, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শ্যামল কুমার হালদার ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে কাফরুল থানা পুলিশের একটি দল ডিমলা থানায় গিয়ে লাশ উদ্ধারে আইনগত সহযোগিতা চায়। পরে দুই থানার সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল মামুনের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

প্রিন্ট করুন :