বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় দায়িত্বপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) সুপার থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ দাবি করে বেতন বিলসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার এক সহকারী মৌলভীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নজির উদ্দিন মৃধা।
অভিযোগের প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) সুপার ও সম্পাদক মো. নজির উদ্দিন মৃধা।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. নজির উদ্দিন মৃধা (ইনডেক্স নম্বর-০৭৬৮৪৮)কে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভায় মো. নজির উদ্দিন মৃধাকে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর ২০২৪) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্তির চিঠির ভিত্তিতে মো. নজির উদ্দিন মৃধা মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মাসুম বিল্লাহ (ইনডেক্স নম্বর-৩৫৮০৯৪) কোনো দায়িত্বপ্রাপ্তির অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ দাবি করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাগজপত্রে মাসুম বিল্লাহ স্বাক্ষর করে সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মো. নজির উদ্দিন মৃধা বলেন, তাঁর দায়িত্ব বহাল থাকা অবস্থায় অন্য একজনের নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবি করে বেতন বিল, ভাউচার ও প্রশাসনিক নথিতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এসব নথি যাচাই-বাছাই ছাড়া অনুমোদন না দেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের সমর্থনে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্তির বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি, ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন এবং পূর্ববর্তী বেতন বিলের অনুলিপি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী মৌলভী মো. মাসুম বিল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
শিরোনাম :
বাউফলে জালিয়াতি করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবি
-
Reporter Name - Update Time : ১০:১৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ৬০ Time View
Tag :
Popular Post





















