ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন-ডিসির সঙ্গে রাফির ফোনালাপ ভাইরাল,ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৮ Time View

ঝিনাইদাহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগ ও বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের সঙ্গে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মো. রফিকুল ইসলাম রাফিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ রফিকুল ইসলাম রাফিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে রাফিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে সার ডিলার নিয়োগ ও বণ্টন নিয়ে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলতে শোনা যায়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদের নাম উল্লেখ করে সার ডিলারশিপ বণ্টনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেন।

ডিসিকে উদ্দেশ করে রাফি বলেন, “কোন ডিলারের কাছ থেকে কে কত টাকা নিয়েছেন এবং কার অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢুকেছে, তার যাবতীয় প্রমাণাদি প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি, তা হয়তো আপনার জানা নেই। আপনি কারও ক্রীড়নক না হয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন।

ফোনালাপ ভাইরালের পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা
ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম রাফিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ২৬ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বহিষ্কারের পর রাফির প্রতিক্রিয়া

তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন রফিকুল ইসলাম রাফি। তাঁর দাবি, জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাফি বলেন, “ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের অন্যায়, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই আমার অপরাধ। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বহিষ্কারের আগে কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি এবং কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়নি।

রাফির ভাষ্য, “দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ও এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ আমি করেই যাব।

এদিকে সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ ফোনালাপে তোলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন-ডিসির সঙ্গে রাফির ফোনালাপ ভাইরাল,ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

Update Time : ১১:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদাহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগ ও বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের সঙ্গে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মো. রফিকুল ইসলাম রাফিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ রফিকুল ইসলাম রাফিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে রাফিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে সার ডিলার নিয়োগ ও বণ্টন নিয়ে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলতে শোনা যায়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদের নাম উল্লেখ করে সার ডিলারশিপ বণ্টনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেন।

ডিসিকে উদ্দেশ করে রাফি বলেন, “কোন ডিলারের কাছ থেকে কে কত টাকা নিয়েছেন এবং কার অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢুকেছে, তার যাবতীয় প্রমাণাদি প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি, তা হয়তো আপনার জানা নেই। আপনি কারও ক্রীড়নক না হয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন।

ফোনালাপ ভাইরালের পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা
ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম রাফিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ২৬ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বহিষ্কারের পর রাফির প্রতিক্রিয়া

তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন রফিকুল ইসলাম রাফি। তাঁর দাবি, জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাফি বলেন, “ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের অন্যায়, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই আমার অপরাধ। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বহিষ্কারের আগে কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি এবং কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়নি।

রাফির ভাষ্য, “দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ও এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ আমি করেই যাব।

এদিকে সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ ফোনালাপে তোলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রিন্ট করুন :