ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

পুরুষে রূপান্তরে অস্ত্রোপচারের পর যুবতীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৬ Time View

সৈয়দ নুর আহসান

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে স্তন অস্ত্রোপচারের (মাস্টেকটমি) পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকার পান্থপথ-গ্রিন রোড এলাকার ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া, রোগীর পরিচয় এবং অস্ত্রোপচারের সম্মতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লিজা ছেলেদের মতো পোশাক ও আচরণে অভ্যস্ত ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘সরফরাজ’ নাম ব্যবহার করে পুরুষ পরিচয়ে লিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাঁর স্তন অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ওই দিন বিকেলে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে লিজার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। লিজা পুরুষে রূপান্তরিত হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে জেনিফা আক্তার লিজার ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে স্বাক্ষর করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। জেনিফার দাবি, লিজার বাবা-মায়ের সম্মতিক্রমেই তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও তাঁর পরিবার বহন করে।

তবে লিজার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, নাম পরিবর্তন করে ‘সরফরাজ’ পরিচয়ে ভর্তি এবং জেনিফার স্বাক্ষরে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতেন না।

অন্যদিকে লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই লিজার আচরণে ভিন্নতা ছিল। এর আগে তাঁকে দুটি বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার টেকেনি। জেনিফার ওপর আস্থা রেখেই চিকিৎসার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে মৃতের নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ ‘পুরুষ’ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে দায়িত্বরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর পরিচয়, সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া, চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে লিজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

পুরুষে রূপান্তরে অস্ত্রোপচারের পর যুবতীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

Update Time : ০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৈয়দ নুর আহসান

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে স্তন অস্ত্রোপচারের (মাস্টেকটমি) পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকার পান্থপথ-গ্রিন রোড এলাকার ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া, রোগীর পরিচয় এবং অস্ত্রোপচারের সম্মতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লিজা ছেলেদের মতো পোশাক ও আচরণে অভ্যস্ত ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘সরফরাজ’ নাম ব্যবহার করে পুরুষ পরিচয়ে লিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাঁর স্তন অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ওই দিন বিকেলে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে লিজার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। লিজা পুরুষে রূপান্তরিত হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে জেনিফা আক্তার লিজার ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে স্বাক্ষর করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। জেনিফার দাবি, লিজার বাবা-মায়ের সম্মতিক্রমেই তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও তাঁর পরিবার বহন করে।

তবে লিজার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, নাম পরিবর্তন করে ‘সরফরাজ’ পরিচয়ে ভর্তি এবং জেনিফার স্বাক্ষরে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতেন না।

অন্যদিকে লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই লিজার আচরণে ভিন্নতা ছিল। এর আগে তাঁকে দুটি বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার টেকেনি। জেনিফার ওপর আস্থা রেখেই চিকিৎসার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে মৃতের নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ ‘পুরুষ’ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে দায়িত্বরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর পরিচয়, সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া, চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে লিজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

প্রিন্ট করুন :