ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বরগুনায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ,নিঃস্ব বহু পরিবার 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩ Time View

 

মোঃ শাহজালাল

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের ছেলে রিমনকে ঘিরে কম্বোডিয়ায় চাকরির কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বিদেশে গিয়ে হয়রানি এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে কয়েকটি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছর আগে নিজাম উদ্দিন রিকশা চালানো ও ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। পরে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে প্রায় ১১ মাস থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর ছেলে রিমন কম্বোডিয়ায় যান। পরে কম্বোডিয়ায় লোক পাঠানোর মাধ্যমে নিজাম পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ফুলতলা গ্রামের মেহেদী হাসানের কাছ থেকে ৫ লাখ, তাহমিনা ও সেন্টু বেপারীর ছেলে অভির কাছ থেকে ৫ লাখ এবং মৃত ইসমাইলের ছেলে হাসিবের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর তারা প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। কেউ কেউ সেখানে আটকে পড়েন এবং দেশে ফিরতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঋণ করে বা সম্পদ বিক্রি করে ওই টাকা পাঠিয়েছেন বলেও জানান তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশে ফেরার পরও তাদের অনেকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। পাওনাদারদের কয়েকজনকে আংশিক টাকা দেওয়া হলেও অধিকাংশ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে নিজাম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ এবং বরগুনা শহরে জমি কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এছাড়া নিজামের ছেলে রিমনের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী খাজুরতলা গ্রামের এক ব্যক্তির ১২ বছর বয়সী মেয়েকে রিমনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং নগদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে ওই মেয়ের বাবা জসিম খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাল্যবিবাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন।

তবে নিজাম উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষ তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বরগুনায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ,নিঃস্ব বহু পরিবার 

Update Time : ১২:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 

মোঃ শাহজালাল

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের ছেলে রিমনকে ঘিরে কম্বোডিয়ায় চাকরির কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বিদেশে গিয়ে হয়রানি এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে কয়েকটি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছর আগে নিজাম উদ্দিন রিকশা চালানো ও ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। পরে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে প্রায় ১১ মাস থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর ছেলে রিমন কম্বোডিয়ায় যান। পরে কম্বোডিয়ায় লোক পাঠানোর মাধ্যমে নিজাম পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ফুলতলা গ্রামের মেহেদী হাসানের কাছ থেকে ৫ লাখ, তাহমিনা ও সেন্টু বেপারীর ছেলে অভির কাছ থেকে ৫ লাখ এবং মৃত ইসমাইলের ছেলে হাসিবের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর তারা প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। কেউ কেউ সেখানে আটকে পড়েন এবং দেশে ফিরতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঋণ করে বা সম্পদ বিক্রি করে ওই টাকা পাঠিয়েছেন বলেও জানান তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশে ফেরার পরও তাদের অনেকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। পাওনাদারদের কয়েকজনকে আংশিক টাকা দেওয়া হলেও অধিকাংশ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে নিজাম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ এবং বরগুনা শহরে জমি কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এছাড়া নিজামের ছেলে রিমনের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী খাজুরতলা গ্রামের এক ব্যক্তির ১২ বছর বয়সী মেয়েকে রিমনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং নগদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে ওই মেয়ের বাবা জসিম খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাল্যবিবাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন।

তবে নিজাম উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষ তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

প্রিন্ট করুন :