ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কৃষি উদ্যোক্তার সৌদি খেজুরের বাগানে ঢুকে ফলনধরা গাছসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানের মালিক প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।

ঘটনার পর করা মামলায় রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মোজাহিদুল ইসলামের ভাষ্য, কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকায় দুই ভাই মিলে ২৭ শতক জমিতে ২০১৮ সালে সৌদি খেজুরের বাগানটি গড়ে তোলেন। কয়েক বছর পরিচর্যার পর ২০২২ সাল থেকে গাছগুলোতে ফলন আসতে শুরু করে। পরে ২০২৪ সাল থেকে খেজুরের চারা উৎপাদন ও বিক্রিও শুরু করেন তাঁরা।

বর্তমানে ওই বাগানে প্রায় ৭০টি পরিণত সৌদি খেজুরগাছ, দুই শতাধিক চারা এবং বিভিন্ন ফলের গাছের নার্সারি রয়েছে বলে জানান মোজাহিদুল।

তাঁর অভিযোগ, গত ৩০ জুলাই সকাল ১১টার দিকে রবিউল খামারের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর অন্তত ১০টি ফলনধরা সৌদি খেজুরগাছ কুপিয়ে নষ্ট করা হয়। এ সময় আম, লংগান, লেবু, মালবেরি ও ফলন্ত কলাগাছসহ আরও বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা হয়। তিনটি খেজুরের ছড়াও কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় ৫ আগস্ট কলাপাড়া থানায় মামলা করেন মোজাহিদুল ইসলাম। মামলায় তিনি মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার শরীরে আঘাত করলে হয়তো একসময় সেই ক্ষত শুকিয়ে যেত। কিন্তু জীবিকার অবলম্বন ধ্বংস করে দেওয়ায় আমি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।”

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তাঁকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননা দিয়েছিল। নিজের শ্রম ও অর্থে গড়ে তোলা বাগানটি ধ্বংসের ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, ঘটনার পর তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত খামারটি পরিদর্শন করেছেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি “অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক”। পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কলাপাড়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন চক্রবর্তী বলেন, মামলার একমাত্র আসামি রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

Update Time : ১০:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কৃষি উদ্যোক্তার সৌদি খেজুরের বাগানে ঢুকে ফলনধরা গাছসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানের মালিক প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।

ঘটনার পর করা মামলায় রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মোজাহিদুল ইসলামের ভাষ্য, কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকায় দুই ভাই মিলে ২৭ শতক জমিতে ২০১৮ সালে সৌদি খেজুরের বাগানটি গড়ে তোলেন। কয়েক বছর পরিচর্যার পর ২০২২ সাল থেকে গাছগুলোতে ফলন আসতে শুরু করে। পরে ২০২৪ সাল থেকে খেজুরের চারা উৎপাদন ও বিক্রিও শুরু করেন তাঁরা।

বর্তমানে ওই বাগানে প্রায় ৭০টি পরিণত সৌদি খেজুরগাছ, দুই শতাধিক চারা এবং বিভিন্ন ফলের গাছের নার্সারি রয়েছে বলে জানান মোজাহিদুল।

তাঁর অভিযোগ, গত ৩০ জুলাই সকাল ১১টার দিকে রবিউল খামারের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর অন্তত ১০টি ফলনধরা সৌদি খেজুরগাছ কুপিয়ে নষ্ট করা হয়। এ সময় আম, লংগান, লেবু, মালবেরি ও ফলন্ত কলাগাছসহ আরও বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা হয়। তিনটি খেজুরের ছড়াও কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় ৫ আগস্ট কলাপাড়া থানায় মামলা করেন মোজাহিদুল ইসলাম। মামলায় তিনি মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার শরীরে আঘাত করলে হয়তো একসময় সেই ক্ষত শুকিয়ে যেত। কিন্তু জীবিকার অবলম্বন ধ্বংস করে দেওয়ায় আমি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।”

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তাঁকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননা দিয়েছিল। নিজের শ্রম ও অর্থে গড়ে তোলা বাগানটি ধ্বংসের ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, ঘটনার পর তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত খামারটি পরিদর্শন করেছেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি “অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক”। পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কলাপাড়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন চক্রবর্তী বলেন, মামলার একমাত্র আসামি রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।

প্রিন্ট করুন :