বরিশালের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আজকের দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে নগর থেকে গ্রাম—সবখানেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে সমবেত হন। অনেকের প্রত্যাশা, এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-সংক্রান্ত দাবিগুলো নতুন করে আলোচনায় আনবে।
ভোর থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল থেকে মানুষ নগরমুখী হন। সদর রোড, অশ্বিনী কুমার হল এলাকা, বন্দর রোড, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী ও কাশীপুরে ছিল মানুষের উপস্থিতি। পথে পথে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও অংশগ্রহণ দেখা যায়।
সফরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তুলনামূলক সংযত আয়োজন। প্রচলিত বিশাল তোরণ, ব্যানার কিংবা ব্যয়বহুল সাজসজ্জার পরিবর্তে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গৌরনদীর বাটাজোর-সরিকল খালপাড় ও বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কিছু অবকাঠামোগত দাবি আবারও সামনে এসেছে এই সফরকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস বরিশাল অঞ্চলে সরবরাহ, ঢাকা-বরিশাল রেলপথ, পায়রা সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের অর্থনীতি মূলত কৃষি, মৎস্য, নদীবন্দর ও উপকূলীয় সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে দক্ষিণাঞ্চল জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। সে কারণে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও উঠেছে।
সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচিস্থলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
বরিশালের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণআন্দোলন ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, এই সফর যদি ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনায় রূপ নেয়, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ আরও সুগম হতে পারে।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা মূলত উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন, নিরাপদ নদীপথ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরিশাল ও আশপাশের অঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
একটি রাজনৈতিক সফরের তাৎপর্য শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় তার বাস্তব ফলাফলের মাধ্যমে। তাই এই সফরকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা এখন উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দিকে।
লেখকঃ জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট।
জুবাইয়া বিন্তে কবির 























