ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

জেলেদের ২২ দিনের অপেক্ষার অবসান, রূপালি ইলিশের আশায় মুখর উপকূল

আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, পটুয়াখালী থেকে

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে আবারও সাগরে নামবেন উপকূলের হাজারো জেলে। দীর্ঘ বিরতির পর জেলেপল্লিগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন, কেউ আবার বরফ সংগ্রহে ব্যস্ত। পটুয়াখালীর মহিপুর, আলিপুর, লতাচাপলী ও গলাচিপাসহ উপকূলজুড়ে এখন কর্মচাঞ্চলতায় মুখর দৃশ্য।

প্রতি বছরের মতো এবারও ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুতের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়। মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই জেলেদের ঘরে ঘরে এখন নতুন আশার আলো। ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলের জেলেরা সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর ও আলিপুর মৎস্য বন্দরে দেখা গেছে জেলেদের ব্যাপক ব্যস্ততা। ট্রলার পরিষ্কার, বরফ সংগ্রহ ও জাল মেরামতের কাজ শেষ করে এখন অনেকে মধ্যরাতের অপেক্ষায়।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮ হাজার ৩০৫ জন নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার নির্ধারিত ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল পেয়েছেন। তবে কিছু জেলে অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ না থাকায় কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন।

স্থানীয় জেলে আব্দুল হাকিম বলেন,
“ভরা মৌসুমে ইলিশ কম পেয়েছিলাম। নিষেধাজ্ঞার সময় খুব কষ্টে সংসার চলেছে। এখন সাগরে নামব, আল্লাহ চাইলে ভালো ইলিশ পাব।”

আরেক জেলে ফারুক মিয়া বলেন,
“এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। মাছ না ধরলে কিস্তি দেওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞার সময়টা কষ্টের ছিল, এখন আবার নতুন করে আশা জেগেছে।”

আলিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী বলেন,
“দীর্ঘ ২২ দিন আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। আজ মধ্যরাতেই জেলেরা সাগরে নামবেন। আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি রূপালি ইলিশের।”

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,
“নিষেধাজ্ঞা শেষে উপকূলের জেলেরা সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।”

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ একযোগে অভিযান চালিয়েছে। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে জেলেদের মুখে এখন একটাই প্রত্যাশা—সমুদ্র ভরে উঠুক রূপালি ইলিশে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও সমুদ্রে নামার প্রস্তুতিতে জেগে উঠেছে পুরো উপকূল। মধ্যরাতের সাগরযাত্রাকে ঘিরে পটুয়াখালীর মহিপুর, আলিপুর ও আশপাশের জেলেপল্লিগুলো এখন যেন উৎসবের নগরী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

জেলেদের ২২ দিনের অপেক্ষার অবসান, রূপালি ইলিশের আশায় মুখর উপকূল

Update Time : ১১:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, পটুয়াখালী থেকে

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে আবারও সাগরে নামবেন উপকূলের হাজারো জেলে। দীর্ঘ বিরতির পর জেলেপল্লিগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন, কেউ আবার বরফ সংগ্রহে ব্যস্ত। পটুয়াখালীর মহিপুর, আলিপুর, লতাচাপলী ও গলাচিপাসহ উপকূলজুড়ে এখন কর্মচাঞ্চলতায় মুখর দৃশ্য।

প্রতি বছরের মতো এবারও ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুতের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়। মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই জেলেদের ঘরে ঘরে এখন নতুন আশার আলো। ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলের জেলেরা সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর ও আলিপুর মৎস্য বন্দরে দেখা গেছে জেলেদের ব্যাপক ব্যস্ততা। ট্রলার পরিষ্কার, বরফ সংগ্রহ ও জাল মেরামতের কাজ শেষ করে এখন অনেকে মধ্যরাতের অপেক্ষায়।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮ হাজার ৩০৫ জন নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার নির্ধারিত ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল পেয়েছেন। তবে কিছু জেলে অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ না থাকায় কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন।

স্থানীয় জেলে আব্দুল হাকিম বলেন,
“ভরা মৌসুমে ইলিশ কম পেয়েছিলাম। নিষেধাজ্ঞার সময় খুব কষ্টে সংসার চলেছে। এখন সাগরে নামব, আল্লাহ চাইলে ভালো ইলিশ পাব।”

আরেক জেলে ফারুক মিয়া বলেন,
“এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। মাছ না ধরলে কিস্তি দেওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞার সময়টা কষ্টের ছিল, এখন আবার নতুন করে আশা জেগেছে।”

আলিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী বলেন,
“দীর্ঘ ২২ দিন আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। আজ মধ্যরাতেই জেলেরা সাগরে নামবেন। আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি রূপালি ইলিশের।”

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,
“নিষেধাজ্ঞা শেষে উপকূলের জেলেরা সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।”

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ একযোগে অভিযান চালিয়েছে। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে জেলেদের মুখে এখন একটাই প্রত্যাশা—সমুদ্র ভরে উঠুক রূপালি ইলিশে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও সমুদ্রে নামার প্রস্তুতিতে জেগে উঠেছে পুরো উপকূল। মধ্যরাতের সাগরযাত্রাকে ঘিরে পটুয়াখালীর মহিপুর, আলিপুর ও আশপাশের জেলেপল্লিগুলো এখন যেন উৎসবের নগরী।

প্রিন্ট করুন :