ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

নুরা পাগলার লাশ পোড়ানো ইস্যু ও ধর্মীয় ভ্রান্তি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরা পাগলার মাজারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনা শুধু স্থানীয় বা ধর্মীয় ইস্যু নয়; বরং তা এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে।

আন্তর্জাতিক মহলে ঘটনাটিকে “মুসলমানদের অসহিষ্ণুতা ও বর্বরতা” হিসেবে ফ্রেম করা হচ্ছে। দেশের ভেতরেও নানা রাজনৈতিক স্বার্থে অনেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন।

নুরা পাগলা নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করেছিলেন এবং ধর্ম অবমাননাকর বিভিন্ন কাজকর্ম করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে অস্বাভাবিক কায়দায় দাফন করা হয় এবং পরে তার অনুসারীরা কবর ঘিরে কাবা শরীফের আদলে একটি স্থাপনা নির্মাণ করে। অনুসারীদের নানা অসামাজিক কার্যকলাপ সহ নুরা পাগলার ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে শরীয়াহ-বিরোধী ও মুসলিম উম্মাহর জন্য চরম অসম্মানজনক। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে ক্ষুব্ধ মানুষ মাজারটি ভেঙে দেয়। এ পর্যন্ত ঘটনাটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য বলা যায়।

কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ—নুরা পাগলার মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা—চরম মাত্রার বাড়াবাড়ি। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং ভণ্ডদের পক্ষেই যুক্তি জুগিয়েছে। বাস্তবে মৃতদেহের ছাইকেও ভক্তরা “পবিত্র” হিসেবে প্রচার করতে পারবে। ফলে এ পদক্ষেপ ইসলামপন্থীদের কোনো বিজয় বয়ে আনেনি; বরং সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

এখানে সরকারের দায়ও এড়ানো যায় না। দীর্ঘদিন ধরে সতর্কবার্তা ও প্রতিবাদ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। প্রতিবার ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে আগাম উদ্যোগ জরুরি।

গোয়ালন্দের এই ঘটনা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। ধর্মীয় ভ্রান্তি ও ভণ্ডামি প্রতিহত করতে হবে, তবে আইনের সীমা অতিক্রম না করে। সাময়িক আবেগপ্রসূত পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম সমাজের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন সময় এসেছে—প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সংকট মোকাবেলার।

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,

নির্বাহী সম্পাদক, সাউথ বাংলা।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

নুরা পাগলার লাশ পোড়ানো ইস্যু ও ধর্মীয় ভ্রান্তি

Update Time : ০৭:২৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরা পাগলার মাজারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনা শুধু স্থানীয় বা ধর্মীয় ইস্যু নয়; বরং তা এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে।

আন্তর্জাতিক মহলে ঘটনাটিকে “মুসলমানদের অসহিষ্ণুতা ও বর্বরতা” হিসেবে ফ্রেম করা হচ্ছে। দেশের ভেতরেও নানা রাজনৈতিক স্বার্থে অনেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন।

নুরা পাগলা নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করেছিলেন এবং ধর্ম অবমাননাকর বিভিন্ন কাজকর্ম করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে অস্বাভাবিক কায়দায় দাফন করা হয় এবং পরে তার অনুসারীরা কবর ঘিরে কাবা শরীফের আদলে একটি স্থাপনা নির্মাণ করে। অনুসারীদের নানা অসামাজিক কার্যকলাপ সহ নুরা পাগলার ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে শরীয়াহ-বিরোধী ও মুসলিম উম্মাহর জন্য চরম অসম্মানজনক। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে ক্ষুব্ধ মানুষ মাজারটি ভেঙে দেয়। এ পর্যন্ত ঘটনাটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য বলা যায়।

কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ—নুরা পাগলার মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা—চরম মাত্রার বাড়াবাড়ি। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং ভণ্ডদের পক্ষেই যুক্তি জুগিয়েছে। বাস্তবে মৃতদেহের ছাইকেও ভক্তরা “পবিত্র” হিসেবে প্রচার করতে পারবে। ফলে এ পদক্ষেপ ইসলামপন্থীদের কোনো বিজয় বয়ে আনেনি; বরং সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

এখানে সরকারের দায়ও এড়ানো যায় না। দীর্ঘদিন ধরে সতর্কবার্তা ও প্রতিবাদ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। প্রতিবার ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে আগাম উদ্যোগ জরুরি।

গোয়ালন্দের এই ঘটনা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। ধর্মীয় ভ্রান্তি ও ভণ্ডামি প্রতিহত করতে হবে, তবে আইনের সীমা অতিক্রম না করে। সাময়িক আবেগপ্রসূত পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম সমাজের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন সময় এসেছে—প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সংকট মোকাবেলার।

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,

নির্বাহী সম্পাদক, সাউথ বাংলা।

 

প্রিন্ট করুন :