ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

স্কুল নয়, জমি দখলের কৌশল? দুমকিতে যুবলীগ সভাপতির কান্ড!

সাকিব হোসেন, দুমকী থেকে||

জীর্ণ ভবন মাথা তুলে আছে, কিন্তু নেই শিক্ষক, নেই ছাত্র। পাঠদান শূন্য। তবু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ‘চরবয়রা হনুফা নুরআলী বিদ্যালয়’। উদ্দেশ্য কি শিক্ষা, না জমি দখল ও সরকারি অনুদান খাওয়া—প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের এই কথিত বিদ্যালয়টি ঘিরে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাওলাদার ফিরোজ্জামান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের।

স্থানীয়দের বক্তব্য, ২০০৬ সালে হনুফা-নুরআলীর নামে বিদ্যালয় স্থাপন হলেও গত পাঁচ বছর ধরে এর পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থী নেই—শুধু বোর্ড ঝুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লতিফ মৃধা ও হারুন মৃধা স্পষ্ট বলেন, “এখানে কোনো স্কুলের অস্তিত্ব নেই। গত পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ ভবনটিই তার প্রমাণ।”

অভিযোগ আরও গুরুতর করে তোলেন মৃত. সোবহান হাওলাদারের ছেলে মুসা হাওলাদার। তাঁর দাবি, “আমাদের পৈতৃক জমি দখল করতেই বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করেছে যুবলীগ সভাপতি ফিরোজ্জামান পরিবার। এটি নিছক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি জমি দখল করে সরকারি অনুদান খাওয়ার হাতিয়ার।”

অভিযুক্ত ফিরোজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. কামরুজ্জামান পাল্টা দাবি করেন, “এটি আমাদের ক্রয়কৃত জমি। এলাকার কিছু লোক মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছে।”

কিন্তু বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যদি সত্যিই নিয়মিত চলত, তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাকের আলী বাবুল কেন বলবেন—“প্রায় এক বছর ধরে কোনো ক্লাস হয় না”?
আর সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, যিনি জমি বিরোধে সালিশদার ছিলেন, তাঁর বক্তব্য আরও স্পষ্ট: “৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২০ শতাংশের মালিকানা থাকলেও, বাকি ১৩ শতাংশ সোবহান হাওলাদারদের প্রাপ্য। সেই জমির ওপরেই তৈরি হয়েছে স্কুল ভবন।”

এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, ২৯ জুন ২০২৫ তারিখে জমি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি হয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, তাহলে তা শুধু আইনের ব্যর্থতাই নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চরম অসম্মান।

প্রশ্ন জাগে—অবকাঠামো বানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চোখে ধুলা দিয়ে, ভূমিদস্যুতা চালানোর লাইসেন্স কী কেউ হাতে পেয়েছে?
তদন্ত হোক, সত্যি বেরিয়ে আসুক—বিদ্যালয়ের নামে জমি কুক্ষিগত করার দৃষ্টান্ত যেন আর না গড়ে ওঠে দাবি সুশীল সমাজের লোকজনের।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

স্কুল নয়, জমি দখলের কৌশল? দুমকিতে যুবলীগ সভাপতির কান্ড!

Update Time : ০৯:১১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

সাকিব হোসেন, দুমকী থেকে||

জীর্ণ ভবন মাথা তুলে আছে, কিন্তু নেই শিক্ষক, নেই ছাত্র। পাঠদান শূন্য। তবু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ‘চরবয়রা হনুফা নুরআলী বিদ্যালয়’। উদ্দেশ্য কি শিক্ষা, না জমি দখল ও সরকারি অনুদান খাওয়া—প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের এই কথিত বিদ্যালয়টি ঘিরে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাওলাদার ফিরোজ্জামান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের।

স্থানীয়দের বক্তব্য, ২০০৬ সালে হনুফা-নুরআলীর নামে বিদ্যালয় স্থাপন হলেও গত পাঁচ বছর ধরে এর পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থী নেই—শুধু বোর্ড ঝুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লতিফ মৃধা ও হারুন মৃধা স্পষ্ট বলেন, “এখানে কোনো স্কুলের অস্তিত্ব নেই। গত পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ ভবনটিই তার প্রমাণ।”

অভিযোগ আরও গুরুতর করে তোলেন মৃত. সোবহান হাওলাদারের ছেলে মুসা হাওলাদার। তাঁর দাবি, “আমাদের পৈতৃক জমি দখল করতেই বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করেছে যুবলীগ সভাপতি ফিরোজ্জামান পরিবার। এটি নিছক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি জমি দখল করে সরকারি অনুদান খাওয়ার হাতিয়ার।”

অভিযুক্ত ফিরোজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. কামরুজ্জামান পাল্টা দাবি করেন, “এটি আমাদের ক্রয়কৃত জমি। এলাকার কিছু লোক মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছে।”

কিন্তু বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যদি সত্যিই নিয়মিত চলত, তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাকের আলী বাবুল কেন বলবেন—“প্রায় এক বছর ধরে কোনো ক্লাস হয় না”?
আর সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, যিনি জমি বিরোধে সালিশদার ছিলেন, তাঁর বক্তব্য আরও স্পষ্ট: “৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২০ শতাংশের মালিকানা থাকলেও, বাকি ১৩ শতাংশ সোবহান হাওলাদারদের প্রাপ্য। সেই জমির ওপরেই তৈরি হয়েছে স্কুল ভবন।”

এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, ২৯ জুন ২০২৫ তারিখে জমি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি হয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, তাহলে তা শুধু আইনের ব্যর্থতাই নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চরম অসম্মান।

প্রশ্ন জাগে—অবকাঠামো বানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চোখে ধুলা দিয়ে, ভূমিদস্যুতা চালানোর লাইসেন্স কী কেউ হাতে পেয়েছে?
তদন্ত হোক, সত্যি বেরিয়ে আসুক—বিদ্যালয়ের নামে জমি কুক্ষিগত করার দৃষ্টান্ত যেন আর না গড়ে ওঠে দাবি সুশীল সমাজের লোকজনের।

প্রিন্ট করুন :