ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

গলাচিপায় যৌতুক মামলার বাদী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আসামিদের হুমকিতে

  • সঞ্জীব দাস
  • Update Time : ০৮:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • ১০৬ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদন, গলাচিপা | আনন্দবাজার অনলাইন

আইনের আশ্রয় নিয়েও মিলছে না নিরাপত্তা। বরং মামলার পর শুরু হয়েছে উলটো ভয়-ভীতি। এমনই অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর গলাচিপায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে এখন আত্মগোপনে বাদী শাবনুর আক্তার। আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের।

গলাচিপা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদী রোডের বাসিন্দা শাবনুর সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৩, পিটিশন মামলা-৩৩০)। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় পাঁচজনকে, যাদের মধ্যে একজন—হাসান সিকদার (২৮)—কে ঢাকা গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তার পর থেকেই। শাবনুরের অভিযোগ, বাকি দুই আসামি মহিউদ্দিন মুন্সি ও মজিবর সিকদার নিয়মিত তাঁকে ফোনে ভয় দেখাচ্ছেন। মামলার বাদী বলেন, “ওরা ফোনে মামলা তুলে নিতে বলছে, না নিলে খারাপ ফল হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন আত্মীয়দের বাড়িতে আত্মগোপনে। নিজের বাড়িতে ফেরার সাহস নেই।”

শুধু শাবনুর নন, হুমকির মুখে পড়েছেন তাঁর বাবা হারুন গাজীও। তিনি বলেন, “আমি মামলার সাক্ষী। মেয়েকে নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশকে ভয় পায় না। অথচ মামলা হয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।”

এই মামলায় শাবনুর উল্লেখ করেছেন, তাঁর ৪ বছরের সন্তান আব্দুল্লাহ্ রয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় অনেক কিছু সহ্য করেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়ের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি চাই আইনের মাধ্যমে এদের বিচার হোক। ভয় দেখিয়ে কেউ যেন বিচার প্রক্রিয়াকে থামাতে না পারে।”

এদিকে থানার আশেপাশেই আসামিদের ঘোরাফেরা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশীর কথায়, “থানায় মামলা হওয়ার পরও যদি আসামিরা বুক ফুলিয়ে ঘোরাফেরা করে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আদৌ সম্ভব কি, যখন বাদীকে মামলা করেই পালাতে হয়?
গলাচিপায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

গলাচিপায় যৌতুক মামলার বাদী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আসামিদের হুমকিতে

Update Time : ০৮:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদন, গলাচিপা | আনন্দবাজার অনলাইন

আইনের আশ্রয় নিয়েও মিলছে না নিরাপত্তা। বরং মামলার পর শুরু হয়েছে উলটো ভয়-ভীতি। এমনই অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর গলাচিপায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে এখন আত্মগোপনে বাদী শাবনুর আক্তার। আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের।

গলাচিপা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদী রোডের বাসিন্দা শাবনুর সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৩, পিটিশন মামলা-৩৩০)। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় পাঁচজনকে, যাদের মধ্যে একজন—হাসান সিকদার (২৮)—কে ঢাকা গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তার পর থেকেই। শাবনুরের অভিযোগ, বাকি দুই আসামি মহিউদ্দিন মুন্সি ও মজিবর সিকদার নিয়মিত তাঁকে ফোনে ভয় দেখাচ্ছেন। মামলার বাদী বলেন, “ওরা ফোনে মামলা তুলে নিতে বলছে, না নিলে খারাপ ফল হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন আত্মীয়দের বাড়িতে আত্মগোপনে। নিজের বাড়িতে ফেরার সাহস নেই।”

শুধু শাবনুর নন, হুমকির মুখে পড়েছেন তাঁর বাবা হারুন গাজীও। তিনি বলেন, “আমি মামলার সাক্ষী। মেয়েকে নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশকে ভয় পায় না। অথচ মামলা হয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।”

এই মামলায় শাবনুর উল্লেখ করেছেন, তাঁর ৪ বছরের সন্তান আব্দুল্লাহ্ রয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় অনেক কিছু সহ্য করেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়ের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি চাই আইনের মাধ্যমে এদের বিচার হোক। ভয় দেখিয়ে কেউ যেন বিচার প্রক্রিয়াকে থামাতে না পারে।”

এদিকে থানার আশেপাশেই আসামিদের ঘোরাফেরা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশীর কথায়, “থানায় মামলা হওয়ার পরও যদি আসামিরা বুক ফুলিয়ে ঘোরাফেরা করে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আদৌ সম্ভব কি, যখন বাদীকে মামলা করেই পালাতে হয়?
গলাচিপায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন :