ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

ভোলায় লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ ছাত্রদল নেত্রীর, ৪ দিন পর উদ্ধার লাশ — ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড়

🖋️ মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি||

ভোলার ছাত্রদল নেত্রী ইস্পিতা নিখোঁজের চার দিন পর পাওয়া গেল তার নিথর দেহ।
নিরুদ্দেশের রহস্যে জড়িয়েছে ধর্ষণের অভিযোগ, চাপা আত্নহত্যা না কি ঠান্ডা মাথার খুন — জবাব খুঁজছে পরিবার ও নেটপাড়া।

▶️ কী ঘটেছিল ১৭ জুন?

সকাল সাড়ে ১০টা। এমভি কর্ণফুলী-৪ লঞ্চে চড়লেন ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রদল নেত্রী সুকন্যা আক্তার ইস্পিতা (২২)। উদ্দেশ্য ঢাকা।
কেবিন বুক করা ছিল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চ ভিড়ে কালিগঞ্জ ঘাটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোবাইলে কথা বলছিলেন ইস্পিতা। দেখাচ্ছিল হতাশ। কিছুক্ষণের মধ্যে তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ।

▶️ “লাইফ বয়া ফেলেও রক্ষা করা যায়নি”

লঞ্চ সুপারভাইজার নান্টু মিয়া বলেন,
“মেয়েটিকে হতাশ দেখা গিয়েছিল। ঝাঁপ দেওয়ার পর আমরা লাইফবয়া ফেলি, কিন্তু তীব্র ঢেউয়ের কারণে সে আর বাঁচেনি।”

▶️ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

এক নারী যাত্রী জানান,

> “দুই লঞ্চ স্টাফ মিলে একটি কেবিনে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর লজ্জা-অপমানে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়। আমি ৯৯৯-এ ফোন করে সব জানিয়েছি।”

 

এই ফোনালাপের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ থানা পুলিশ ওই নারী ও দুই লঞ্চ স্টাফকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে ছেড়ে দেয়।
তবে এখানেই শেষ নয়—নেট দুনিয়ায় শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

▶️ ৪ দিন পর পাওয়া যায় লাশ

২২ জুন বিকেলে লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভেসে আসে একটি লাশ।
অজ্ঞাত হিসেবে দাফন হয়।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভোলা সদর থানা থেকে খোঁজ পেয়ে ইস্পিতার বাবা মাসুদ রানা ছবি দেখে শনাক্ত করেন মেয়ের লাশ।

▶️ ময়নাতদন্তের আগেই ইঙ্গিত

নৌ-পুলিশ অফিসার আজিজুল ইসলাম জানান:

> “লাশের শরীরে আঘাত ও থেঁতলানোর চিহ্ন রয়েছে। হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষণ হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

 

▶️ পরিবারের দাবি:

“আমরা কাউকে দোষারোপ করছি না, তবে মেয়েটি কেন নদীতে ঝাঁপ দিল, সেটা খুঁজে বের করা হোক।” — বললেন বাবা মাসুদ রানা।

—

❗ প্রশ্ন উঠছে—

আত্মহত্যা না কি হত্যার প্ররোচনা?

লঞ্চে কী ঘটেছিল আসলে?

স্টাফদের ছেড়ে দেওয়া হল কী ভিত্তিতে?

প্রশ্নচিহ্ন ঘিরে উত্তাল পুরো ভোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
মেয়েটি কি ন্যায়বিচার পাবে?

🛑 আসামিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত উত্তর নেই।
🕯️ ইস্পিতা এখন শুধু একটি নাম নয়,
একটি প্রশ্নচিহ্ন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

ভোলায় লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ ছাত্রদল নেত্রীর, ৪ দিন পর উদ্ধার লাশ — ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড়

Update Time : ০৪:২৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

🖋️ মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি||

ভোলার ছাত্রদল নেত্রী ইস্পিতা নিখোঁজের চার দিন পর পাওয়া গেল তার নিথর দেহ।
নিরুদ্দেশের রহস্যে জড়িয়েছে ধর্ষণের অভিযোগ, চাপা আত্নহত্যা না কি ঠান্ডা মাথার খুন — জবাব খুঁজছে পরিবার ও নেটপাড়া।

▶️ কী ঘটেছিল ১৭ জুন?

সকাল সাড়ে ১০টা। এমভি কর্ণফুলী-৪ লঞ্চে চড়লেন ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রদল নেত্রী সুকন্যা আক্তার ইস্পিতা (২২)। উদ্দেশ্য ঢাকা।
কেবিন বুক করা ছিল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চ ভিড়ে কালিগঞ্জ ঘাটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোবাইলে কথা বলছিলেন ইস্পিতা। দেখাচ্ছিল হতাশ। কিছুক্ষণের মধ্যে তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ।

▶️ “লাইফ বয়া ফেলেও রক্ষা করা যায়নি”

লঞ্চ সুপারভাইজার নান্টু মিয়া বলেন,
“মেয়েটিকে হতাশ দেখা গিয়েছিল। ঝাঁপ দেওয়ার পর আমরা লাইফবয়া ফেলি, কিন্তু তীব্র ঢেউয়ের কারণে সে আর বাঁচেনি।”

▶️ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

এক নারী যাত্রী জানান,

> “দুই লঞ্চ স্টাফ মিলে একটি কেবিনে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর লজ্জা-অপমানে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়। আমি ৯৯৯-এ ফোন করে সব জানিয়েছি।”

 

এই ফোনালাপের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ থানা পুলিশ ওই নারী ও দুই লঞ্চ স্টাফকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে ছেড়ে দেয়।
তবে এখানেই শেষ নয়—নেট দুনিয়ায় শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

▶️ ৪ দিন পর পাওয়া যায় লাশ

২২ জুন বিকেলে লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভেসে আসে একটি লাশ।
অজ্ঞাত হিসেবে দাফন হয়।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভোলা সদর থানা থেকে খোঁজ পেয়ে ইস্পিতার বাবা মাসুদ রানা ছবি দেখে শনাক্ত করেন মেয়ের লাশ।

▶️ ময়নাতদন্তের আগেই ইঙ্গিত

নৌ-পুলিশ অফিসার আজিজুল ইসলাম জানান:

> “লাশের শরীরে আঘাত ও থেঁতলানোর চিহ্ন রয়েছে। হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষণ হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

 

▶️ পরিবারের দাবি:

“আমরা কাউকে দোষারোপ করছি না, তবে মেয়েটি কেন নদীতে ঝাঁপ দিল, সেটা খুঁজে বের করা হোক।” — বললেন বাবা মাসুদ রানা।

—

❗ প্রশ্ন উঠছে—

আত্মহত্যা না কি হত্যার প্ররোচনা?

লঞ্চে কী ঘটেছিল আসলে?

স্টাফদের ছেড়ে দেওয়া হল কী ভিত্তিতে?

প্রশ্নচিহ্ন ঘিরে উত্তাল পুরো ভোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
মেয়েটি কি ন্যায়বিচার পাবে?

🛑 আসামিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত উত্তর নেই।
🕯️ ইস্পিতা এখন শুধু একটি নাম নয়,
একটি প্রশ্নচিহ্ন।

 

প্রিন্ট করুন :