🖋️ সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
সাগর আর নদীবেষ্টিত পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী—দুই উপকূলঘেঁষা উপজেলা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্গম এই এলাকাতেই বহু কষ্টে টিকিয়ে রাখা হয়েছে একটি মাত্র ফৌজদারি চৌকি আদালত, গলাচিপা সদরে। কিন্তু সেই আদালতেই গত আট মাস ধরে নেই কোনও বিচারক। ফলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো বিচারপ্রার্থী।
২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শেষবারের মতো বিচারকের কাঠগড়ায় শুনানি হয় গলাচিপায়। ওই দিনই বদলি হন শেষ বিচারক। তারপর কেটে গেছে সাত মাসের বেশি সময়—তবু নেই কোনও নিয়োগ। বিচারপ্রার্থীরা দিশেহারা, আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ।
রাঙ্গাবালী থেকে বিশাল নদীপথ পেরিয়ে অনেকেই প্রতিনিয়ত আসেন অভিযোগ নিয়ে। কিন্তু গলাচিপায় এসে জানতে পারেন—বিচারক নেই, ফিরে যান!
স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “এখন নিজের বিচার নিজেই করতে হয়! মামলা না নেওয়ায় মারামারি, লুটপাট, চাঁদাবাজি বেড়েই চলেছে।”
গলাচিপা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) গাজী মো. আল-আমিন ও আইনজীবী প্রতিনিধি মো. মোকলেছুর রহমান জানান—উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা ‘দ্রুত নিয়োগ’ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও কাগজ-কলমে কিছুই হয়নি।
অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম ও মাহাবুব রহমান জানান—“আইন-কানুনের শাসন নেই বললেই চলে। বিচার না পেয়ে সাধারণ মানুষ এখন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
বিচারকহীন আদালত কিসের?
এতদিনে কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন?
এখন গলাচিপা-রাঙ্গাবালীবাসীর একটাই দাবি—
> “অবিলম্বে বিচারক নিয়োগ দিন, আমাদের ন্যায়বিচার ফিরিয়ে দিন!”
🛑 নইলে উপকূলীয় জনপদে নেমে আসতে পারে আইনের শূন্যতার ভয়াবহতা।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























