ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

চট্টগ্রামে নিজগৃহে সাংবাদিকের রক্তাক্ত রাত: কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস তাণ্ডব, মাস্টারমাইন্ড ধরাছোঁয়ার বাইরে!

নিজস্ব প্রতিবেদক||

এক ভয়াল রাতের সাক্ষী হয়ে থাকলো বায়েজিদ থানার তায়্যেবা ভবন। নিরপরাধ, অসহায় পরিবার—তাদের ঘর, তাদের আশ্রয়—সেইখানেই নেমে আসে কিশোর গ্যাংয়ের বর্বর হামলা। মধ্যযুগীয় কায়দায়, প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদকে নিজ বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধর, রক্তাক্ত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল সন্ত্রাসী চক্র। আর প্রশাসন? চেয়ে চেয়ে দেখল। কেউ মুখ খুলছে না, কারণ ভয় এখনও ঘর গিলে খায়।

ঘটনার মূল হোতা, ‘সোর্স’ নামের এক দাপুটে চক্রপতি, এখনো পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিক ও পরিবারকে পুলিশ উদ্ধার করলেও মূল অপরাধীরা বেশিরভাগই অধরা। ধরা পড়েছে মাত্র একজন—জিহাদ নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য। বাকিরা? আড়ালেই।

সুপরিকল্পিত হামলা, পুরনো শত্রুতা ও গোপন মাস্টারপ্ল্যান

ঘটনার সূত্রপাত এক সাবলেট ভাড়াটিয়াকে ঘিরে। গোপন পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয় ষড়যন্ত্রের জাল। ধোঁয়া তুলসীপাতা সাজিয়ে আসা সেই জিহাদ নামের যুবক এক রাতেই দেখিয়ে দেয় তার ভয়ঙ্কর রূপ। তার আসল লক্ষ্য ছিল ঘর নয়, হামলা। সাংবাদিক পরিচয় সত্ত্বেও রক্ষা মেলেনি। বরং তারাই চিৎকার করে বলে—”পুলিশ আসতেছে, এখনই ভিডিও দাও, না হলে লুটে নেবো ঘরের সব!” এরপর কিলঘুষি, লাথি, দেশীয় অস্ত্রের আঘাত—সব মিলে নির্মম রক্তপাত।

সাংবাদিকের অপরাধ কী?

নিজের এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা! প্রতিবেশীকে সহায়তা করতে গিয়ে নিজেই হলেন হামলার শিকার। সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় গভীর হতাশা—
“সাংবাদিক পরিচয় দিলাম, বললাম চলেন থানায় যাই, সমস্যা নেই। কিন্তু তারাও ছিল নির্দয়। তারাই মারছে, তারাই বলছে: পুলিশকে খবর দিলে শেষ করে দেব!”

প্রশাসনের নীরবতাঃ রহস্য না ব্যর্থতা?

পুলিশ জানিয়েছে, চারজন জড়িতের তথ্য পাওয়া গেছে। একজন আটক হলেও বাকি তিনজন এখনো মুক্ত। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য—”যারা হামলা করেছে, তাদের অনেকেরই স্থানীয় প্রভাব রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও পুলিশি তদবিরে তাঁরা পার পেয়ে যাচ্ছে।”

ঘটনার পরপরই শুরু হয় প্রমাণ মুছে ফেলার খেলা। মোবাইলের ভিডিও ডিলিট, খসড়া কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া, রক্ত মুছে ফেলা—সবই সাজানো নাটকের মতো।

জনমনে আতঙ্ক, চুপ রয়েছে প্রতিবেশীরাওঃ

এ যেন এক শব্দহীন উপত্যকা। হামলার পর রাতজুড়ে সাংবাদিক পরিবার জিম্মি ছিল ঘরে। আশেপাশে কেউ সাহস করেনি এগিয়ে আসতে।
“ভয়ে আমরা কেউ মুখ খুলি না। প্রতিবাদ করলেই বলে, এলাকা ছাড়া করবো।” – একজন প্রত্যক্ষদর্শীর গলা কাঁপে।

বায়েজিদ থানার ওসি কামরুজ্জামান বললেন,
“ঘটনাটি আপত্তিকর। আমরা জড়িতদের ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

চট্টগ্রামে নিজগৃহে সাংবাদিকের রক্তাক্ত রাত: কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস তাণ্ডব, মাস্টারমাইন্ড ধরাছোঁয়ার বাইরে!

Update Time : ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক||

এক ভয়াল রাতের সাক্ষী হয়ে থাকলো বায়েজিদ থানার তায়্যেবা ভবন। নিরপরাধ, অসহায় পরিবার—তাদের ঘর, তাদের আশ্রয়—সেইখানেই নেমে আসে কিশোর গ্যাংয়ের বর্বর হামলা। মধ্যযুগীয় কায়দায়, প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদকে নিজ বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধর, রক্তাক্ত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল সন্ত্রাসী চক্র। আর প্রশাসন? চেয়ে চেয়ে দেখল। কেউ মুখ খুলছে না, কারণ ভয় এখনও ঘর গিলে খায়।

ঘটনার মূল হোতা, ‘সোর্স’ নামের এক দাপুটে চক্রপতি, এখনো পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিক ও পরিবারকে পুলিশ উদ্ধার করলেও মূল অপরাধীরা বেশিরভাগই অধরা। ধরা পড়েছে মাত্র একজন—জিহাদ নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য। বাকিরা? আড়ালেই।

সুপরিকল্পিত হামলা, পুরনো শত্রুতা ও গোপন মাস্টারপ্ল্যান

ঘটনার সূত্রপাত এক সাবলেট ভাড়াটিয়াকে ঘিরে। গোপন পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয় ষড়যন্ত্রের জাল। ধোঁয়া তুলসীপাতা সাজিয়ে আসা সেই জিহাদ নামের যুবক এক রাতেই দেখিয়ে দেয় তার ভয়ঙ্কর রূপ। তার আসল লক্ষ্য ছিল ঘর নয়, হামলা। সাংবাদিক পরিচয় সত্ত্বেও রক্ষা মেলেনি। বরং তারাই চিৎকার করে বলে—”পুলিশ আসতেছে, এখনই ভিডিও দাও, না হলে লুটে নেবো ঘরের সব!” এরপর কিলঘুষি, লাথি, দেশীয় অস্ত্রের আঘাত—সব মিলে নির্মম রক্তপাত।

সাংবাদিকের অপরাধ কী?

নিজের এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা! প্রতিবেশীকে সহায়তা করতে গিয়ে নিজেই হলেন হামলার শিকার। সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় গভীর হতাশা—
“সাংবাদিক পরিচয় দিলাম, বললাম চলেন থানায় যাই, সমস্যা নেই। কিন্তু তারাও ছিল নির্দয়। তারাই মারছে, তারাই বলছে: পুলিশকে খবর দিলে শেষ করে দেব!”

প্রশাসনের নীরবতাঃ রহস্য না ব্যর্থতা?

পুলিশ জানিয়েছে, চারজন জড়িতের তথ্য পাওয়া গেছে। একজন আটক হলেও বাকি তিনজন এখনো মুক্ত। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য—”যারা হামলা করেছে, তাদের অনেকেরই স্থানীয় প্রভাব রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও পুলিশি তদবিরে তাঁরা পার পেয়ে যাচ্ছে।”

ঘটনার পরপরই শুরু হয় প্রমাণ মুছে ফেলার খেলা। মোবাইলের ভিডিও ডিলিট, খসড়া কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া, রক্ত মুছে ফেলা—সবই সাজানো নাটকের মতো।

জনমনে আতঙ্ক, চুপ রয়েছে প্রতিবেশীরাওঃ

এ যেন এক শব্দহীন উপত্যকা। হামলার পর রাতজুড়ে সাংবাদিক পরিবার জিম্মি ছিল ঘরে। আশেপাশে কেউ সাহস করেনি এগিয়ে আসতে।
“ভয়ে আমরা কেউ মুখ খুলি না। প্রতিবাদ করলেই বলে, এলাকা ছাড়া করবো।” – একজন প্রত্যক্ষদর্শীর গলা কাঁপে।

বায়েজিদ থানার ওসি কামরুজ্জামান বললেন,
“ঘটনাটি আপত্তিকর। আমরা জড়িতদের ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”

প্রিন্ট করুন :