ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

ঘরভর্তি অসহায়তা আর চোখভর্তি কান্না, বাঁচতে চায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দুমকীর সাব্বির

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুমকি (পটুয়াখালী)

ছোট্ট একটি কক্ষ। দেয়ালে ধরা স্যাঁতসেঁতে, মেঝেতে মাদুর পাতা। পাশেই কোণে সেঁধিয়ে আছে অকেজো কিছু আসবাব। এই ঘরেই দিনরাত পড়ে থাকে মোঃ সাব্বির হোসেন। মুখ শুকনো, চোখে হতাশার ছায়া। মুখে একটাই কথা—”আমিও বাঁচতে চাই, স্যার।”

১৪ বছরের সাব্বির থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। জন্মের পর থেকেই প্রতি মাসে একব্যাগ করে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত নিতে হতো তার। বাবা মিজানুর রহমান খান, পেশায় রাজমিস্ত্রী, নিজের সামান্য আয়ে কোনোভাবে ছেলেকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই শরীর ভেঙে পড়ে সাব্বিরের।

তৎক্ষণাৎ ভর্তি করা হয় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা চলে ১৫ দিন। তখনই জানা যায়—সাব্বির কেবল রক্তের অভাবে নয়, থ্যালাসেমিয়ার জটিল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন প্রতি মাসে দুইবার রক্ত দিতে হয়, খরচ পড়ে ৫-৬ হাজার টাকা। এর উপর ডাক্তাররা বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন দরকার।

অথচ মিজানুর রহমানের ঘরে চাল কেনার টাকাও জোটে না অনেক দিন। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব। সাব্বিরের চিকিৎসা ও সংসার চালাতে গিয়ে তার সব শেষ।

দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তালুকদার বাজার লাগোয়া এলাকায় তাদের বাস। স্থানীয় মানুষের সহানুভূতি থাকলেও আর্থিক সহায়তা প্রায় নেই বললেই চলে। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা একুব আলী খান জানালেন, “সাব্বিরের চিকিৎসা আর সংসার—দুটোই একসাথে চালাতে গিয়ে পরিবারটা একেবারে তলানিতে চলে গেছে।”

সাব্বিরের নিজের কথায়, “পেটটা শক্ত হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। একটু বাঁচার আশায় তাকিয়ে থাকি দরজার দিকে। কেউ যদি সাহায্য করে…”

বাবা মিজানুর রহমান একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে বলেন, “অপারেশন করাতে হবে, না হলে ছেলেকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। কার কাছে যাব বুঝতে পারছি না।”

এখন একটাই ভরসা—এই সমাজের সহৃদয় মানুষগুলো। কেউ একটু পাশে দাঁড়ালেই বদলে যেতে পারে এক অসহায় কিশোরের ভাগ্য।

আপনার সাহায্য জীবন বাঁচাতে পারে। যোগাযোগ করুন—
📞 নগদ পার্সোনাল নম্বর: ০১৭১০৯৫০০১২ (মিজানুর রহমান খান)

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ঘরভর্তি অসহায়তা আর চোখভর্তি কান্না, বাঁচতে চায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দুমকীর সাব্বির

Update Time : ১১:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুমকি (পটুয়াখালী)

ছোট্ট একটি কক্ষ। দেয়ালে ধরা স্যাঁতসেঁতে, মেঝেতে মাদুর পাতা। পাশেই কোণে সেঁধিয়ে আছে অকেজো কিছু আসবাব। এই ঘরেই দিনরাত পড়ে থাকে মোঃ সাব্বির হোসেন। মুখ শুকনো, চোখে হতাশার ছায়া। মুখে একটাই কথা—”আমিও বাঁচতে চাই, স্যার।”

১৪ বছরের সাব্বির থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। জন্মের পর থেকেই প্রতি মাসে একব্যাগ করে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত নিতে হতো তার। বাবা মিজানুর রহমান খান, পেশায় রাজমিস্ত্রী, নিজের সামান্য আয়ে কোনোভাবে ছেলেকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই শরীর ভেঙে পড়ে সাব্বিরের।

তৎক্ষণাৎ ভর্তি করা হয় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা চলে ১৫ দিন। তখনই জানা যায়—সাব্বির কেবল রক্তের অভাবে নয়, থ্যালাসেমিয়ার জটিল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন প্রতি মাসে দুইবার রক্ত দিতে হয়, খরচ পড়ে ৫-৬ হাজার টাকা। এর উপর ডাক্তাররা বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন দরকার।

অথচ মিজানুর রহমানের ঘরে চাল কেনার টাকাও জোটে না অনেক দিন। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব। সাব্বিরের চিকিৎসা ও সংসার চালাতে গিয়ে তার সব শেষ।

দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তালুকদার বাজার লাগোয়া এলাকায় তাদের বাস। স্থানীয় মানুষের সহানুভূতি থাকলেও আর্থিক সহায়তা প্রায় নেই বললেই চলে। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা একুব আলী খান জানালেন, “সাব্বিরের চিকিৎসা আর সংসার—দুটোই একসাথে চালাতে গিয়ে পরিবারটা একেবারে তলানিতে চলে গেছে।”

সাব্বিরের নিজের কথায়, “পেটটা শক্ত হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। একটু বাঁচার আশায় তাকিয়ে থাকি দরজার দিকে। কেউ যদি সাহায্য করে…”

বাবা মিজানুর রহমান একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে বলেন, “অপারেশন করাতে হবে, না হলে ছেলেকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। কার কাছে যাব বুঝতে পারছি না।”

এখন একটাই ভরসা—এই সমাজের সহৃদয় মানুষগুলো। কেউ একটু পাশে দাঁড়ালেই বদলে যেতে পারে এক অসহায় কিশোরের ভাগ্য।

আপনার সাহায্য জীবন বাঁচাতে পারে। যোগাযোগ করুন—
📞 নগদ পার্সোনাল নম্বর: ০১৭১০৯৫০০১২ (মিজানুর রহমান খান)

প্রিন্ট করুন :