ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

কবরস্থান কমিটির সভাপতি নির্বাচনঃ প্রার্থী দুজন, ভোটার ৮০০, প্রতীক ছাতা ও চেয়ার

ছবির ক্যাপশন: সভাপতি পদের দুই প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস (ছাতা) এবং শরিফুল ইসলাম (চেয়ার)। ছবি: সংগৃহীত।

পাবনা প্রতিনিধি||

নির্বাচন মানেই জনসমাগম, ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার, আপ্যায়ন আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। তবে সেটি যদি হয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন—তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ ঘটনা। এমনই ব্যতিক্রমী নির্বাচনের সাক্ষী হতে চলেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলা।

উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার, মহরমখালী ও জগতলা (আংশিক) তিন গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে ‘জান্নাতুল বাকি কবরস্থান’ কমিটির সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ মে। এ উপলক্ষে এলাকায় বইছে নির্বাচনী আমেজ, যেন একটি ছোটখাটো স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন। তফশিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র কিনেছেন দুই প্রার্থী—আব্দুল কুদ্দুস (প্রতীক: ছাতা) ও শরিফুল ইসলাম (প্রতীক: চেয়ার)। দুইজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এবং চালাচ্ছেন জোরদার প্রচারণা। চলছে উঠান বৈঠক, ভোটারদের দাওয়াত আর কবরস্থান উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি যেন এখন গোটা ইউনিয়নের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচন এখন রূপ নিয়েছে জনপ্রিয় অংশগ্রহণমূলক এক গণতান্ত্রিক চর্চায়।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন কমিশন প্রধান আব্দুল মতিন মাস্টার জানান, ‘দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় থানার ওসি’র পরামর্শে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতীক বরাদ্দ নিয়েছেন। ভোট গ্রহণ হবে ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।’

প্রতিটি পরিবার থেকে একজন পুরুষ ভোটার নির্বাচিত হয়ে মোট ৮০০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মনোনয়ন বিক্রির ৬০ হাজার টাকা থেকেই নির্বাচন পরিচালনার খরচ বহন করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশন প্রধান।

চাটমোহর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, ‘উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।’

অন্যদিকে, প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস ও শরিফুল ইসলাম উভয়ই সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা দুজনই এলাকার উন্নয়ন এবং কবরস্থানের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

এই ব্যতিক্রমী নির্বাচন এখন শুধু কবরস্থান নয়, বরং গণতন্ত্র চর্চার একটি ব্যতিক্রমী মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে এলাকাবাসীর কাছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

কবরস্থান কমিটির সভাপতি নির্বাচনঃ প্রার্থী দুজন, ভোটার ৮০০, প্রতীক ছাতা ও চেয়ার

Update Time : ০১:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫

ছবির ক্যাপশন: সভাপতি পদের দুই প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস (ছাতা) এবং শরিফুল ইসলাম (চেয়ার)। ছবি: সংগৃহীত।

পাবনা প্রতিনিধি||

নির্বাচন মানেই জনসমাগম, ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার, আপ্যায়ন আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। তবে সেটি যদি হয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন—তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ ঘটনা। এমনই ব্যতিক্রমী নির্বাচনের সাক্ষী হতে চলেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলা।

উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার, মহরমখালী ও জগতলা (আংশিক) তিন গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে ‘জান্নাতুল বাকি কবরস্থান’ কমিটির সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ মে। এ উপলক্ষে এলাকায় বইছে নির্বাচনী আমেজ, যেন একটি ছোটখাটো স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন। তফশিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র কিনেছেন দুই প্রার্থী—আব্দুল কুদ্দুস (প্রতীক: ছাতা) ও শরিফুল ইসলাম (প্রতীক: চেয়ার)। দুইজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এবং চালাচ্ছেন জোরদার প্রচারণা। চলছে উঠান বৈঠক, ভোটারদের দাওয়াত আর কবরস্থান উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি যেন এখন গোটা ইউনিয়নের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচন এখন রূপ নিয়েছে জনপ্রিয় অংশগ্রহণমূলক এক গণতান্ত্রিক চর্চায়।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন কমিশন প্রধান আব্দুল মতিন মাস্টার জানান, ‘দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় থানার ওসি’র পরামর্শে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতীক বরাদ্দ নিয়েছেন। ভোট গ্রহণ হবে ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।’

প্রতিটি পরিবার থেকে একজন পুরুষ ভোটার নির্বাচিত হয়ে মোট ৮০০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মনোনয়ন বিক্রির ৬০ হাজার টাকা থেকেই নির্বাচন পরিচালনার খরচ বহন করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশন প্রধান।

চাটমোহর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, ‘উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।’

অন্যদিকে, প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস ও শরিফুল ইসলাম উভয়ই সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা দুজনই এলাকার উন্নয়ন এবং কবরস্থানের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

এই ব্যতিক্রমী নির্বাচন এখন শুধু কবরস্থান নয়, বরং গণতন্ত্র চর্চার একটি ব্যতিক্রমী মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে এলাকাবাসীর কাছে।

 

প্রিন্ট করুন :