নিজস্ব প্রতিবেদক||
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ করে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মামলার পর আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা।
রোববার (৪ মে) রাতে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে আকাশ সরকার (২১) নামের এক যুবক কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপহরণের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের শরণাপন্ন হলেও মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে তাকে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা বশির কাজীর কাছে গেলে তিনি মীমাংসার শর্ত হিসেবে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন। এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও মেয়ে ফেরত না দিয়ে বরং তাকে মারধর করা হয়।
অবশেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে তার বোনের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ মার্চ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দাখিল করেন তিনি এবং আদালতের নির্দেশে গলাচিপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে ভুক্তভোগীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান তিনি। মামলার অন্যতম আসামি আকাশ সরকার ছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালী বশির কাজী, মাহামুদুল হাসান বশির, মামুন গাজী ও মোস্তাফিজ গাজী মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং না মানলে বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বশির কাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নামে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, “আকাশ সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, রিপোর্ট এলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারটি প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























