ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক কলাপাড়ায় কবিরাজের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার-স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকৃতি আছে, পরিকল্পনা নেই: পর্যটনে পিছিয়ে বাহুবল জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ গৌরনদীতে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯টি তাজা ককটেল উদ্ধার ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না-ডা. শফিকুর রহমান আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ অপসারণ করে নতুন ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে হত্যার মামলায় পুলিশের বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় পুলিশের আরও দুই সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদ। সাত বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া অপর তিন আসামি হলেন পুলিশের বরখাস্ত হওয়া সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

পিপি জানিয়েছেন, ছয় আসামির মধ্যে বর্তমানে শুধু আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচজন পলাতক।

রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে থাকা আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।

আসামিদের জামিনে মুক্তি ও পলাতক হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সালমা বেগম বলেন, তাঁর ছেলেকে যারা নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, তাঁদের কয়েকজন পলাতক থাকায় আদালতের রায় বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, আসামিরা শাস্তি না পেলে ছয় বছর ধরে অপেক্ষা ও কষ্টের কোনো সুরাহা হবে না।

যেভাবে ঘটেছিল রায়হানের মৃত্যু

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মামলাটির তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০২১ সালের ৫ মে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। মামলার প্রধান আসামি করা হয় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে।

অন্য আসামিরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশীদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

ঘটনার পর কনস্টেবল হারুনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে আটক করা হয়েছিল।

আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, পরবর্তী সময়ে আকবর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। তাঁর জামিন স্থগিত হওয়ার পরও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার ছয় আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

Update Time : ০৪:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে হত্যার মামলায় পুলিশের বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় পুলিশের আরও দুই সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদ। সাত বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া অপর তিন আসামি হলেন পুলিশের বরখাস্ত হওয়া সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

পিপি জানিয়েছেন, ছয় আসামির মধ্যে বর্তমানে শুধু আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচজন পলাতক।

রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে থাকা আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।

আসামিদের জামিনে মুক্তি ও পলাতক হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সালমা বেগম বলেন, তাঁর ছেলেকে যারা নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, তাঁদের কয়েকজন পলাতক থাকায় আদালতের রায় বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, আসামিরা শাস্তি না পেলে ছয় বছর ধরে অপেক্ষা ও কষ্টের কোনো সুরাহা হবে না।

যেভাবে ঘটেছিল রায়হানের মৃত্যু

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মামলাটির তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০২১ সালের ৫ মে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। মামলার প্রধান আসামি করা হয় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে।

অন্য আসামিরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশীদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

ঘটনার পর কনস্টেবল হারুনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে আটক করা হয়েছিল।

আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, পরবর্তী সময়ে আকবর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। তাঁর জামিন স্থগিত হওয়ার পরও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার ছয় আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

প্রিন্ট করুন :