ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক কলাপাড়ায় কবিরাজের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার-স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকৃতি আছে, পরিকল্পনা নেই: পর্যটনে পিছিয়ে বাহুবল জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ গৌরনদীতে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯টি তাজা ককটেল উদ্ধার ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না-ডা. শফিকুর রহমান আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ অপসারণ করে নতুন ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

বাউফলে খালে মিলল অর্ধগলিত দেহ, বাবার খুনের তদন্তে একাধিক সূত্র খতিয়ে দেখার দাবি

সাউথ বাংলা ডেস্ক থেকেঃ

খালের জলে ভাসছিল অর্ধগলিত দেহ। শরীরের সঙ্গে বাঁধা ছিল ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা। পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত পোশাক দেখে দেহটি শনাক্ত করল পরিবার। পটুয়াখালীর বাউফলে আলগী খাল থেকে উদ্ধার হওয়া ওই দেহটি আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের (৪৭)। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে রিপা বেগমের করা হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ বাউফল পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলগী খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির অর্ধগলিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তার তিন দিন আগে, বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন আলম।

শনিবার রাতে দেহ উদ্ধারের খবর পান পরিবারের সদস্যেরা। পরের দিন সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে দেহটি আলমের বলে শনাক্ত করেন তাঁরা।

নিহতের মেয়ে রিপা বেগমের দাবি, তাঁর বাবা বিভিন্ন এলাকায় ওরস অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারি গান পরিবেশন করতেন। তিনটি বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তবে আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে থাকতেন আলম। সেখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন বলে পরিবারের দাবি।

কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান সরদার জানান, দেহের পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যেরা আলমকে শনাক্ত করেছেন। দেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। দেহের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বাঁধা ছিল। দেহটি যাতে জলে ভেসে না ওঠে, সেই উদ্দেশ্যেই বস্তাটি বাঁধা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম দাফনের ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে বাউফল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন রিপা বেগম।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ইট ও মুঠোফোনের সূত্রে নজর দেওয়ার দাবি

ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দেহের সঙ্গে বাঁধা ইটগুলো কোন প্রতিষ্ঠানের, তা শনাক্ত করা গেলে তদন্তে নতুন সূত্র মিলতে পারে। ওই প্রতিষ্ঠানের ইট নিহতের বসবাসের আশপাশে রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি, নিখোঁজ হওয়ার আগে আলমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কোথায় ছিল, কার কার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং শেষবার কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

তবে এসব সূত্রের কোনওটির সঙ্গেই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে আলমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

বাউফলে খালে মিলল অর্ধগলিত দেহ, বাবার খুনের তদন্তে একাধিক সূত্র খতিয়ে দেখার দাবি

Update Time : ০৮:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাউথ বাংলা ডেস্ক থেকেঃ

খালের জলে ভাসছিল অর্ধগলিত দেহ। শরীরের সঙ্গে বাঁধা ছিল ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা। পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত পোশাক দেখে দেহটি শনাক্ত করল পরিবার। পটুয়াখালীর বাউফলে আলগী খাল থেকে উদ্ধার হওয়া ওই দেহটি আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের (৪৭)। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে রিপা বেগমের করা হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ বাউফল পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলগী খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির অর্ধগলিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তার তিন দিন আগে, বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন আলম।

শনিবার রাতে দেহ উদ্ধারের খবর পান পরিবারের সদস্যেরা। পরের দিন সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে দেহটি আলমের বলে শনাক্ত করেন তাঁরা।

নিহতের মেয়ে রিপা বেগমের দাবি, তাঁর বাবা বিভিন্ন এলাকায় ওরস অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারি গান পরিবেশন করতেন। তিনটি বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তবে আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে থাকতেন আলম। সেখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন বলে পরিবারের দাবি।

কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান সরদার জানান, দেহের পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যেরা আলমকে শনাক্ত করেছেন। দেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। দেহের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বাঁধা ছিল। দেহটি যাতে জলে ভেসে না ওঠে, সেই উদ্দেশ্যেই বস্তাটি বাঁধা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম দাফনের ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে বাউফল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন রিপা বেগম।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ইট ও মুঠোফোনের সূত্রে নজর দেওয়ার দাবি

ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দেহের সঙ্গে বাঁধা ইটগুলো কোন প্রতিষ্ঠানের, তা শনাক্ত করা গেলে তদন্তে নতুন সূত্র মিলতে পারে। ওই প্রতিষ্ঠানের ইট নিহতের বসবাসের আশপাশে রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি, নিখোঁজ হওয়ার আগে আলমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কোথায় ছিল, কার কার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং শেষবার কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

তবে এসব সূত্রের কোনওটির সঙ্গেই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে আলমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা স্থানীয়দের।

প্রিন্ট করুন :