ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক কলাপাড়ায় কবিরাজের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার-স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকৃতি আছে, পরিকল্পনা নেই: পর্যটনে পিছিয়ে বাহুবল জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ গৌরনদীতে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯টি তাজা ককটেল উদ্ধার ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না-ডা. শফিকুর রহমান আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ অপসারণ করে নতুন ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

দুমকীতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সড়ক বেহাল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় শিক্ষার্থী মরিয়ম

দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে একটি গ্রামীণ সড়ক। ইটের সলিং উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এতে সাত থেকে আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী মরিয়ম।

উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে সড়কটিতে প্রথম ইটের সলিং করা হয়। এরপর প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। সড়কটির আইডি নম্বর ৫৭৮৯৫৪১১৪।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় কাদা জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো রোগীকে কোলে করে কিংবা খাটিয়ায় বহন করে নিতে হয়।

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সড়কটির কারণে তাঁদের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান বলেন, “আমরা চরম অবহেলিত একটি এলাকায় বাস করছি। বছরের পর বছর রাস্তাটি বেহাল পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

স্থানীয় ভ্যানচালক মনির বলেন, “উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এই অবস্থা বিশ্বাস করা যায় না। গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।”

শিক্ষার্থী মরিয়ম বলে, “আমরা এমনিতেই প্রতিবন্ধী, চলাফেরা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমাদের এই করুণ অবস্থা দেখে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া যেন রাস্তাটি পাকা করে দেন, যাতে আমরা গাড়ি করে স্কুলে যেতে পারি।”

সড়কটির সংস্কারের বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মঈনুল আজম ম বলেন, আগের প্রকল্পগুলোতে সড়কটি ডিপিবিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। নতুন যেসব প্রকল্প আসছে, সেগুলোতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সড়কটি প্রস্তাব করা হবে।

তিনি বলেন, “আশা করছি, অতিসত্বর রাস্তাটি বাস্তবায়ন হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

দুমকীতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সড়ক বেহাল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় শিক্ষার্থী মরিয়ম

Update Time : ০৮:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে একটি গ্রামীণ সড়ক। ইটের সলিং উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এতে সাত থেকে আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী মরিয়ম।

উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে সড়কটিতে প্রথম ইটের সলিং করা হয়। এরপর প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। সড়কটির আইডি নম্বর ৫৭৮৯৫৪১১৪।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় কাদা জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো রোগীকে কোলে করে কিংবা খাটিয়ায় বহন করে নিতে হয়।

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সড়কটির কারণে তাঁদের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান বলেন, “আমরা চরম অবহেলিত একটি এলাকায় বাস করছি। বছরের পর বছর রাস্তাটি বেহাল পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

স্থানীয় ভ্যানচালক মনির বলেন, “উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এই অবস্থা বিশ্বাস করা যায় না। গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।”

শিক্ষার্থী মরিয়ম বলে, “আমরা এমনিতেই প্রতিবন্ধী, চলাফেরা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমাদের এই করুণ অবস্থা দেখে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া যেন রাস্তাটি পাকা করে দেন, যাতে আমরা গাড়ি করে স্কুলে যেতে পারি।”

সড়কটির সংস্কারের বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মঈনুল আজম ম বলেন, আগের প্রকল্পগুলোতে সড়কটি ডিপিবিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। নতুন যেসব প্রকল্প আসছে, সেগুলোতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সড়কটি প্রস্তাব করা হবে।

তিনি বলেন, “আশা করছি, অতিসত্বর রাস্তাটি বাস্তবায়ন হবে।”

প্রিন্ট করুন :