ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক কলাপাড়ায় কবিরাজের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার-স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকৃতি আছে, পরিকল্পনা নেই: পর্যটনে পিছিয়ে বাহুবল জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ গৌরনদীতে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯টি তাজা ককটেল উদ্ধার ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না-ডা. শফিকুর রহমান আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ অপসারণ করে নতুন ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

আমতলীর এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৬ দফা, অনিয়ম ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৯ Time View

 

আমতলী ( বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলীতে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয়রা।

পটুয়াখালীর দূর্নীতি দমন কমিশন কার্যলয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর পক্ষে মোঃ নাসির উদ্দীন ও স্থানীয় আঃ বাতেন দেওয়ান, মোঃ নুরুজ্জামান শিকদার, মোঃ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরীত ২৬ দফা বিষয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করে অর্থ আত্নসাতের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানায়।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সরকারী অনুদানের পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ের অর্ধেক এর টাকা কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকে না জানিয়ে আত্মসাৎ এর অভিযোগ।
বিদ্যালয়ে সকল প্রকার রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ এর অভিযোগ।

অষ্টম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে ৩ গুণ বেশি অর্থাৎ জনপ্রতি ৩০০/- টাকা করে মোট ৩০,০০০/- টাকা আদায় করেন। বোর্ড নির্ধারিত পরবর্তীতে বোর্ড উক্ত রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলেও তিনি অদ্যবধি শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেননি এবং বিদ্যালয়ের তহবিলেও জমা না করার অভিযোগ।

২০২৬ সালের ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফি ছিল ৪০০/- টাকা এবং প্রবেশপত্র ফি ছিল ২০০/- টাকা। প্রবেশপত্র বিতরণের সময় অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি ২১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এককালীন ১,০০০/- টাকা করে মোট ২১,০০০/-টাকা আদায় করেন। কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে আলোচনা না করে এবং বিদ্যালয় তহবিলে জমা না দিয়ে তিনি সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ।

সরকারি নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের সকল ব্যাংক হিসাব প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি তা না করে তার পছন্দসই একজন শিক্ষককে নিয়ে হিসাব পরিচালনা করছেন এবং ইচ্ছামতো টাকা তুলে আত্মসাৎ এর অভিযোগ।

টিউশনর ফির টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে সঠিকভাবে বণ্টন না করে বিগত ২ বছর ধরে তিনি তালবাহানা করছেন। এছাড়া বিগত বছরে সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৯০,০০০/- টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ। সম্প্রতি ১.২০,০০০/- টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় তহবিলে ৯০,০০০/- টাকা জমা দিয়ে ৩০,০০০/- টাকা নিজের পকেটে ডোাকানোর অভিযোগ । বর্তমানে গচ্ছিত ৪,৫০,০০০/- টাকার মধ্যে ১,০০,০০০/- টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক সভাপতি ২.০০.০০০. টাকা প্রদান করে দাতা সদস্য হয়েছিলেন সেই টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ।
নিয়মবহির্ভূত ভাবে ফরম পুরনের সময় প্রবেশপত্র, মার্কশীট, সনদ পত্রের ফি নেওয়ার অভিযোগ।

সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং করিয়ে এবং ৮ম শ্রেণীর বৃত্তির কোচিংয়ের নামে আলাদা টাকা আদায়ের অভিযোগ।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ছুটির আগে বা পরে পড়ানোর নিয়ম থাকলেও ভালো শিক্ষার্থীদেরও বাধ্য করে প্রতি বিষয়ে ১,০০০/- টাকা হারে কোচিং করানো হচ্ছে। কোচিংয়ের আয়ের ১০% বিদ্যালয় ফান্ডের জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজে না পড়িয়ে ও মাসিক ৫,০০০/-টাকা হারে নিজের পকেটে ভরার অভিযোগ।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র, যেমন: বেঞ্চ, প্রিন্টার ইত্যাদি সরঞ্জাম তিনি নিজের বাসায় নিয়ে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

২০২৫ সালে দুদক পটুয়াখালী কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’-এর জন্য প্রদত্ত ২৫,০০০/- টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের না জানিয়ে তিনি সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার অভিযোগ। বিগত দিনে তিনি দুটি পকেট কমিটি গঠন করেছিলেন, যা নিয়ে মামলা চলমান ছিল! বর্তমানে এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের জন্য অভিভাবক সমাবেশ না করে নিজের পছন্দের লোক নিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠেছে।ভুয়া ভাউচার ও একক কর্তৃত্বের অভিযোগ।

গাইড প্রকাশনীর অনৈতিক কমিশনের অভিযোগ।
তিনি নিজে কোচিং করানোর কারণে এবং প্রশ্নপত্র তার কাছে সংরক্ষিত থাকায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকদের হয়রানি করারও বেশ অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।বিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ক্রয়ে বিশাল অনিয়ম করা হয়।

শিক্ষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা রেজুলেশন বইয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ৮ থেকে ১০টি রেজুলেশন বই বেআইনিভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়মে সর্বোচ্চ ৫,০০০/- টাকা হাতে রাখার বিধান থাকলেও তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতে রেখে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

ভর্তি নীতিমালায় ৫০০/- টাকা নির্ধারিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১,৪০০/-টাকা করে আদায় করা হচ্ছে এবং মোট কত টাকা আদায় হয়েছে তার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২,০০০/৩,০০০/- টাকা নিয়ে বাসায় বসে ভর্তি করানো হয়। এছাড়া বাছাই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৫,০০০/২০,০০০/- টাকার বিনিময়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, যা বিদ্যালয় তহবিলে জমা হয় না হওয়ার অভিযোগ।

নিজের দুর্নীতি ঢাকতে তিনি সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে একাধিক রেজুলেশন ও ভাউচার তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
২০২১ সালের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে নিজের আপন ভাইকে দিয়ে হাইকোর্টে মামলা করিয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কমিটি বহাল রাখেন। এছাড়া এনটিআরসিএ (NTRCA) প্রধান শিক্ষক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও হাইকোর্টে মামলা করে প্রধান শিক্ষকের পদটি স্থগিত করে রেখেছেন।

প্রতি বছর সরকার কর্তৃক ৫০০০/-টাকা দেয় পাছ লাগানোর জন্য। গাছ না লাগিয়ে উক্ত টাকা তিনি সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতি বছর ২০/৩০ জন ছাত্র/ছাত্রীর নিজ নাম/পিতার নাম/মাতার নামে ইচ্চাছাকৃত ভুল করে তারপর ভুল সংশোধনের জন্য ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহীন মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ( অতি:) মোঃ টিপু সুলতান জানায়, অভিযোগের কপি পেয়েছি তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, দুদকে অভিযোগ করেছে তার একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। অভিযোগ অনুযায়ী সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

আমতলীর এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৬ দফা, অনিয়ম ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ

Update Time : ০২:১৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

 

আমতলী ( বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলীতে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয়রা।

পটুয়াখালীর দূর্নীতি দমন কমিশন কার্যলয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর পক্ষে মোঃ নাসির উদ্দীন ও স্থানীয় আঃ বাতেন দেওয়ান, মোঃ নুরুজ্জামান শিকদার, মোঃ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরীত ২৬ দফা বিষয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করে অর্থ আত্নসাতের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানায়।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সরকারী অনুদানের পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ের অর্ধেক এর টাকা কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকে না জানিয়ে আত্মসাৎ এর অভিযোগ।
বিদ্যালয়ে সকল প্রকার রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ এর অভিযোগ।

অষ্টম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে ৩ গুণ বেশি অর্থাৎ জনপ্রতি ৩০০/- টাকা করে মোট ৩০,০০০/- টাকা আদায় করেন। বোর্ড নির্ধারিত পরবর্তীতে বোর্ড উক্ত রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলেও তিনি অদ্যবধি শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেননি এবং বিদ্যালয়ের তহবিলেও জমা না করার অভিযোগ।

২০২৬ সালের ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফি ছিল ৪০০/- টাকা এবং প্রবেশপত্র ফি ছিল ২০০/- টাকা। প্রবেশপত্র বিতরণের সময় অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি ২১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এককালীন ১,০০০/- টাকা করে মোট ২১,০০০/-টাকা আদায় করেন। কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে আলোচনা না করে এবং বিদ্যালয় তহবিলে জমা না দিয়ে তিনি সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ।

সরকারি নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের সকল ব্যাংক হিসাব প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি তা না করে তার পছন্দসই একজন শিক্ষককে নিয়ে হিসাব পরিচালনা করছেন এবং ইচ্ছামতো টাকা তুলে আত্মসাৎ এর অভিযোগ।

টিউশনর ফির টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে সঠিকভাবে বণ্টন না করে বিগত ২ বছর ধরে তিনি তালবাহানা করছেন। এছাড়া বিগত বছরে সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৯০,০০০/- টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ। সম্প্রতি ১.২০,০০০/- টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় তহবিলে ৯০,০০০/- টাকা জমা দিয়ে ৩০,০০০/- টাকা নিজের পকেটে ডোাকানোর অভিযোগ । বর্তমানে গচ্ছিত ৪,৫০,০০০/- টাকার মধ্যে ১,০০,০০০/- টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক সভাপতি ২.০০.০০০. টাকা প্রদান করে দাতা সদস্য হয়েছিলেন সেই টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ।
নিয়মবহির্ভূত ভাবে ফরম পুরনের সময় প্রবেশপত্র, মার্কশীট, সনদ পত্রের ফি নেওয়ার অভিযোগ।

সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং করিয়ে এবং ৮ম শ্রেণীর বৃত্তির কোচিংয়ের নামে আলাদা টাকা আদায়ের অভিযোগ।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ছুটির আগে বা পরে পড়ানোর নিয়ম থাকলেও ভালো শিক্ষার্থীদেরও বাধ্য করে প্রতি বিষয়ে ১,০০০/- টাকা হারে কোচিং করানো হচ্ছে। কোচিংয়ের আয়ের ১০% বিদ্যালয় ফান্ডের জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজে না পড়িয়ে ও মাসিক ৫,০০০/-টাকা হারে নিজের পকেটে ভরার অভিযোগ।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র, যেমন: বেঞ্চ, প্রিন্টার ইত্যাদি সরঞ্জাম তিনি নিজের বাসায় নিয়ে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

২০২৫ সালে দুদক পটুয়াখালী কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’-এর জন্য প্রদত্ত ২৫,০০০/- টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের না জানিয়ে তিনি সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার অভিযোগ। বিগত দিনে তিনি দুটি পকেট কমিটি গঠন করেছিলেন, যা নিয়ে মামলা চলমান ছিল! বর্তমানে এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের জন্য অভিভাবক সমাবেশ না করে নিজের পছন্দের লোক নিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠেছে।ভুয়া ভাউচার ও একক কর্তৃত্বের অভিযোগ।

গাইড প্রকাশনীর অনৈতিক কমিশনের অভিযোগ।
তিনি নিজে কোচিং করানোর কারণে এবং প্রশ্নপত্র তার কাছে সংরক্ষিত থাকায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকদের হয়রানি করারও বেশ অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।বিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ক্রয়ে বিশাল অনিয়ম করা হয়।

শিক্ষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা রেজুলেশন বইয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ৮ থেকে ১০টি রেজুলেশন বই বেআইনিভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়মে সর্বোচ্চ ৫,০০০/- টাকা হাতে রাখার বিধান থাকলেও তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতে রেখে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

ভর্তি নীতিমালায় ৫০০/- টাকা নির্ধারিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১,৪০০/-টাকা করে আদায় করা হচ্ছে এবং মোট কত টাকা আদায় হয়েছে তার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২,০০০/৩,০০০/- টাকা নিয়ে বাসায় বসে ভর্তি করানো হয়। এছাড়া বাছাই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৫,০০০/২০,০০০/- টাকার বিনিময়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, যা বিদ্যালয় তহবিলে জমা হয় না হওয়ার অভিযোগ।

নিজের দুর্নীতি ঢাকতে তিনি সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে একাধিক রেজুলেশন ও ভাউচার তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
২০২১ সালের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে নিজের আপন ভাইকে দিয়ে হাইকোর্টে মামলা করিয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কমিটি বহাল রাখেন। এছাড়া এনটিআরসিএ (NTRCA) প্রধান শিক্ষক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও হাইকোর্টে মামলা করে প্রধান শিক্ষকের পদটি স্থগিত করে রেখেছেন।

প্রতি বছর সরকার কর্তৃক ৫০০০/-টাকা দেয় পাছ লাগানোর জন্য। গাছ না লাগিয়ে উক্ত টাকা তিনি সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতি বছর ২০/৩০ জন ছাত্র/ছাত্রীর নিজ নাম/পিতার নাম/মাতার নামে ইচ্চাছাকৃত ভুল করে তারপর ভুল সংশোধনের জন্য ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহীন মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ( অতি:) মোঃ টিপু সুলতান জানায়, অভিযোগের কপি পেয়েছি তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, দুদকে অভিযোগ করেছে তার একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। অভিযোগ অনুযায়ী সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন :