পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটায় একটি মামলার তদন্ত ও আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এক আসামির বয়স নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বাদীপক্ষের দাবি, ২১ বছর বয়সী ও বিবাহিত এক আসামিকে তদন্ত কর্মকর্তা নথিপত্রে ১৬ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে আসামিদের সুবিধা দিয়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় মামলার পুনঃতদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার বাদী মো. আরিফুল ইসলাম সুমন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি পাথরঘাটা থানার এফআইআর নম্বর-১৬, তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ এবং জি.আর. মামলা নম্বর-৮৩-এর তদন্তপ্রক্রিয়া ও চার্জশিটের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বাদী জানান, গত ১৯ এপ্রিল পাথরঘাটার বাদুরতলা এলাকার নিশিবাড়ীসংলগ্ন স্থানে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাটের কাজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে ২ লাখ টাকা এবং পরে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ তাঁর। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীপক্ষের চারজনের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের আহত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বাদী বলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি মো. বেলাল হোসেনের প্রকৃত বয়স ২১ বছর। তিনি বিবাহিত এবং প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছে। অথচ তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে চার্জশিটে ১৬ বছর বয়সী শিশু ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাদীর দাবি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও জানিয়েছেন, ওই বিদ্যালয়ে বেলাল নামে দশম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই।
বিষয়টি যাচাই করতে ২ নম্বর আসামি বেলাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সরাসরি ভিডিও বক্তব্য নেওয়া হয় বলে জানান বাদী। সেখানে বেলাল নিজেই তাঁর বয়স ২১ বছর এবং প্রায় এক বছর আগে বিয়ে করেছেন বলে জানান। তাঁর স্ত্রীর বক্তব্যেও একই তথ্য পাওয়া গেছে। স্ত্রী জানান, তাঁর বয়স ১৮ বছর এবং তাঁদের বিয়ে হয়েছে প্রায় এক বছর আগে।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেন, আসামির বাড়ি ও জন্মস্থান পাথরঘাটায় হলেও বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ইস্যু করা ২০২৬ সালের জন্মনিবন্ধনের অনলাইন কপি গ্রহণ করা হয়েছে। ওই জন্মনিবন্ধনে আসামির বয়স ১৬ বছর উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য, আহতদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের দাবি, চার্জশিটে কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাদীপক্ষের দাবি, এসব চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বাদীপক্ষ সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—২ নম্বর আসামির প্রকৃত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের রেকর্ড পরীক্ষা, এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য পুনর্মূল্যায়ন, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও আলামত পর্যালোচনা এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
বাদী মো. আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান শেখ। তিনি বলেন, ২ নম্বর আসামি তাঁর জন্মনিবন্ধনের অনলাইন কপি দিয়েছেন, যেখানে বয়স ১৬ বছর উল্লেখ রয়েছে। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে নথিতে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ
এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে চার্জশিট, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটায় একটি মামলার তদন্ত ও আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এক আসামির বয়স নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বাদীপক্ষের দাবি, ২১ বছর বয়সী ও বিবাহিত এক আসামিকে তদন্ত কর্মকর্তা নথিপত্রে ১৬ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে আসামিদের সুবিধা দিয়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় মামলার পুনঃতদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার বাদী মো. আরিফুল ইসলাম সুমন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি পাথরঘাটা থানার এফআইআর নম্বর-১৬, তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ এবং জি.আর. মামলা নম্বর-৮৩-এর তদন্তপ্রক্রিয়া ও চার্জশিটের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বাদী জানান, গত ১৯ এপ্রিল পাথরঘাটার বাদুরতলা এলাকার নিশিবাড়ীসংলগ্ন স্থানে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাটের কাজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে ২ লাখ টাকা এবং পরে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ তাঁর। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীপক্ষের চারজনের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের আহত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বাদী বলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি মো. বেলাল হোসেনের প্রকৃত বয়স ২১ বছর। তিনি বিবাহিত এবং প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছে। অথচ তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে চার্জশিটে ১৬ বছর বয়সী শিশু ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাদীর দাবি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও জানিয়েছেন, ওই বিদ্যালয়ে বেলাল নামে দশম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই।
বিষয়টি যাচাই করতে ২ নম্বর আসামি বেলাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সরাসরি ভিডিও বক্তব্য নেওয়া হয় বলে জানান বাদী। সেখানে বেলাল নিজেই তাঁর বয়স ২১ বছর এবং প্রায় এক বছর আগে বিয়ে করেছেন বলে জানান। তাঁর স্ত্রীর বক্তব্যেও একই তথ্য পাওয়া গেছে। স্ত্রী জানান, তাঁর বয়স ১৮ বছর এবং তাঁদের বিয়ে হয়েছে প্রায় এক বছর আগে।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেন, আসামির বাড়ি ও জন্মস্থান পাথরঘাটায় হলেও বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ইস্যু করা ২০২৬ সালের জন্মনিবন্ধনের অনলাইন কপি গ্রহণ করা হয়েছে। ওই জন্মনিবন্ধনে আসামির বয়স ১৬ বছর উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য, আহতদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের দাবি, চার্জশিটে কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাদীপক্ষের দাবি, এসব চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বাদীপক্ষ সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—২ নম্বর আসামির প্রকৃত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের রেকর্ড পরীক্ষা, এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের বক্তব্য পুনর্মূল্যায়ন, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও আলামত পর্যালোচনা এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
বাদী মো. আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান শেখ। তিনি বলেন, ২ নম্বর আসামি তাঁর জন্মনিবন্ধনের অনলাইন কপি দিয়েছেন, যেখানে বয়স ১৬ বছর উল্লেখ রয়েছে। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, নিয়ম মেনেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে আদালতে নারাজি আবেদন করতে পারবেন। আদালত প্রয়োজন মনে করলে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।