মোঃ সুলাইমান
পাথরঘাটা প্রতিনিধিঃ বরগুনার পাথরঘাটায় কিরণপুর আলিমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম আহসানকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আটজন বিএনপির কর্মী বলে দাবি করেছেন বাদী। হামলায় গুরুতর আহত শামীম আহসান বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত ২০ অক্টোবর রাতে পাথরঘাটা থানায় মামলাটি করেন আহত শিক্ষকের স্ত্রী অজুফা আক্তার। মামলায় চাঁদা দাবি, মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কিরণপুর মাদ্রাসার কাছে শামীম আহসানের পথরোধ করেন মামলার পাঁচ নম্বর আসামি ইব্রাহীম খলিল নয়ন। এ সময় তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে পারবেন বলেও তাঁকে জানানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। তবে শামীম আহসান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এজাহারে আরও বলা হয়, এর দুই দিন পর, ১৫ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে কেরামতপুর বাজারের কাছে যাওয়ার পথে শামীম আহসানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এ সময় কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, স্টিলের টেলিস্কোপিক ব্যাটন, জিআই পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা শামীম আহসানের বুক, মাথা, দুই হাত ও পায়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
মামলার এজাহারে গত ৩০ এপ্রিলের আরেকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন বাদী। তাঁর অভিযোগ, সেদিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শামীম আহসান হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায়ও মামলার পাঁচ নম্বর আসামির নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পাথরঘানা থানায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।