
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশালের উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের নিয়ে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই উপজেলায় মোট ২৭২টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৭৪৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পৃথক দুটি স্থানে আয়োজিত ব্রিফিং প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আবছার। এ সময় বরিশাল জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলাম উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনে সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সকালে উজিরপুর উপজেলার আলহাজ্ব বি. এন. খান ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং প্যারেডে জানানো হয়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১১টি পূজামণ্ডপে ৭১৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পরে আগৈলঝাড়া উপজেলার ভাগাই হালদার পাবলিক একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং প্যারেডে জানানো হয়, সেখানকার ১৬১টি পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৩২ জন সদস্য-সদস্যা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, দুর্গাপূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে সরকার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর আস্থা রেখেছে। এ আস্থার মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যেক সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পূজারি ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের প্রবেশ ও বহির্গমনপথে সতর্ক নজরদারি রাখতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্গাপূজা-সংক্রান্ত সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাটালিয়ন আনসারের মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।
দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন উপমহাপরিচালক। ডেঙ্গুর ঝুঁকি এড়াতে মশার কামড় থেকে সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেন তিনি।
বরিশাল জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, আনসার-ভিডিপির সদস্যরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দায়িত্ব পালনের সময় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাচাই না করা তথ্য বা গুজব প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
ব্রিফিং প্যারেড শেষে উপমহাপরিচালক বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মন্দিরের সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারস্পরিক সমন্বয় ও সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন শুরু হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।