ইশতিয়াক আহমেদ ধ্রুব
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আনোয়ার দেওয়ানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গলাচিপা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. মাসুম বিল্লাহ সোহাগ দেওয়ান অভিযোগ করেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে তিনি, রাসেল খলিফা ও রাজিব খলিফা গলাচিপা সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আনোয়ার দেওয়ান, কামাল, মিজানুর, ইব্রাহিম ও সেকান্দার দেওয়ানসহ আরও কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করে লোহার রড দিয়ে হামলা চালান। এতে রাজিব খলিফার ডান হাতে গুরুতর আঘাত ও হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর মো. রাসেল খলিফা বাদী হয়ে আনোয়ার দেওয়ান (৩৭), কামাল দেওয়ান (৩৫), মিজানুর দেওয়ান (৩৮), ইব্রাহিম দেওয়ান (৩৪) ও সেকান্দার আলী দেওয়ানের (৫৫) নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির দলিলকৃত জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের জমি দখল, বসতঘর ভেঙে ফেলা এবং সরকারি খাস খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষেরও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালে বাঁধ দেওয়ার ফলে স্থানীয় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষাকালে বিভিন্ন পরিবার জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার রাজিব খলিফা বলেন, জমিজমা বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “আনোয়ার দেওয়ান ও তাঁর লোকজন রড দিয়ে পিটিয়ে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
এ সময় ভুক্তভোগী পিয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর দলিলকৃত ও রেকর্ডীয় জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আনোয়ার দেওয়ানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গলাচিপা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনিই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি আনোয়ার দেওয়ানকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।