সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় চিকিৎসাসেবার আড়ালে গড়ে ওঠা একটি অনুমোদনহীন ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সাড়ে ৪ হাজার গ্রাহক ও ৭০ জন শেয়ারহোল্ডারের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে আমানত সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত আমানত ও বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার।
স্থানীয় সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চ মাসে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ম্যাটসের সামনে একটি ভাড়া ভবনে ‘নলতা ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল’ নামে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে হাসপাতালটির কার্যক্রমের আড়ালে ‘নলতা ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতি গঠন করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সমবায় সমিতিটির যথাযথ অনুমোদন ও নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় মাঠকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করা হয়। কালিগঞ্জ, দেবহাটা, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মাসিক সঞ্চয়ের বিপরীতে অধিক মুনাফা, বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ এবং শেয়ার গ্রহণের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। এতে স্থানীয় অনেক মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ধার-দেনা করেও ওই প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা টাকা ফেরতের জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতে তারা কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, তাদের আমানত ও বিনিয়োগের অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমবায় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।