
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থী ও তাঁর সহপাঠীকে আটকে মারধর, ছিনতাই এবং ওই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দুমকীর শ্রীরামপুর এলাকার পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম শিখা (২০) তাঁর সহপাঠী মো. আব্দুল কাইয়ুমকে (২৩) সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় করে ঘুরতে বের হন। তাঁরা শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি সংলগ্ন জামিয়া-ই-ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশের পাকা সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁদের পথরোধ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রিফাত মৃধার নেতৃত্বে হাসান তালুকদার, মাহিন তালুকদার, জাহিদ হাওলাদার ও রফিক তালুকদারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁদের আটকে দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে সাদিয়ার সঙ্গে থাকা আব্দুল কাইয়ুমকে ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাদিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক অটোরিকশায় উঠে তাঁর ব্যাগ টানাটানি করেন এবং তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। তাঁর কাছ থেকেও টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং তখন অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন, ২৩ সেপ্টেম্বর, সাদিয়া ইসলাম শিখা বাদী হয়ে দুমকী থানায় মামলা করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২০।
মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—খলিল মৃধার ছেলে রিফাত মৃধা, সাত্তার তালুকদারের ছেলে হাসান তালুকদার, হানিফ তালুকদারের ছেলে মাহিন তালুকদার, জলিল হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার এবং আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে রফিক তালুকদার। অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা পলাতক থাকায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিরা পালিয়ে থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে হলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রক্টরিয়াল টিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. জামাল হোসেনও বলেন, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। তবে শিক্ষার্থীর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক সমর্থন রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় দুমকীর দিকে পাঠিয়ে দেন।
তাঁর দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে না গেলে আরও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জামিয়া-ই-ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সড়ক ও আশপাশের এলাকায় কিছু যুবকের উৎপাতের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এসব স্থানীয় অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ফলে এজাহারে করা অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং কারা এতে জড়িত—এসব তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।