মাসুদ রানা
পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলির টুকরো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি নিহত কলির সহপাঠীরাও অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা শিশুটির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।
বক্তারা জানান, পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পর নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি পুলিশের কাছে যোগাযোগ করা হয়।
নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা কয়েক দিন ধরে পুলিশের কাছে ঘুরলেও শিশুটিকে উদ্ধারে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দ্রুত তৎপরতা জোরদার করা হলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, শিশু কলির ওপর কোনো ধরনের যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে পাবনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ওলিউর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি হেনা গোস্বামী, সহ-সভাপতি মো. ইকরামুল হক ও মো. বাবুল আক্তারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।
১.ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা।
২. মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে গিয়ে অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. নিহত শিশুর পরিবারের নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা।
৫. শিশু আইন, ২০১৩-এর কার্যকর প্রয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করা।
৬. কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা কিংবা গাফিলতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কলি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।