মোঃ শাহজালাল
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে জরাজীর্ণ টিনশেড ও অস্থায়ী ছোট ছোট কক্ষে। অথচ বিদ্যালয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবন।
দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ভবনটি এখনো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন এবং কর্মচারী তিনজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে।
এই সংকট নিরসনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় ভবনটি এখনো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো টিনশেড ও ছোট ছোট কক্ষেই চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকটা গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে তাদের। টিনশেড কক্ষগুলোতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণেও ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, জায়গার সংকটে রয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরাও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীকে একটি সংকীর্ণ লাইব্রেরি কক্ষে বসে প্রশাসনিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সরকারি বরাদ্দে পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও ভবনটি এখনো পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পুরোনো টিনশেড কক্ষেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে, এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একটি ছোট লাইব্রেরি কক্ষেই ১০ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীকে কোনোরকমে অবস্থান করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, টিনশেড কক্ষে গরমের মধ্যে ক্লাস করতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না থাকায় ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব জানায়, বিদ্যালয়ে ব্যবহার উপযোগী ওয়াশরুমের সংকট রয়েছে। প্রয়োজনের সময় দূরের বাসাবাড়িতে যেতে হয়। এতে বিশেষ করে ছাত্রীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করানো হয়। এতে অনেক সময় অসুস্থ বোধ করে তারা। নতুন ভবনটি চালু হলে শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। ভবনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে সিডিউল অনুযায়ী ভবনের কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর না করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়া দুঃখজনক। দ্রুত কাজ শেষ করে ভবনটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করা হলে শ্রেণিকক্ষ সংকট কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে পাঁচতলা ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও ব্যবহার উপযোগী ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
এতে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে।