
উপজেলার উত্তর রাজাখালী এলাকার চন্দ্র কুমার ফকির বাড়ির শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে গত ২৯ এপ্রিল রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে পূজা দিতে গিয়ে মন্দিরের মূল দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান মন্দিরের সভাপতি গোকুল গোস্বামীর মা জোৎস্না রানী।
মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই রাতে একটি পিতলের গোবিন্দ প্রতিমাসহ বিভিন্ন পিতলের পূজার সামগ্রী চুরি হয়। এ ঘটনায় মন্দিরের সভাপতি গোকুল গোস্বামী অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তবে চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু প্রতিমা দুটি উদ্ধার হয়েছে।
তানভীর খানের দাবি, তিন থেকে চার মাস আগে রাজাখালী সেতু এলাকায় তিনি প্রতিমা দুটি কুড়িয়ে পান। পরে পিরতলা বাজারের দোলা গ্লাস হাউজের মালিক বিপুলের কাছে প্রতিমা দুটি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
তাঁর ভাষ্য, পরে বিপুলের কাছ থেকে প্রতিমা দুটি নিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার ভবনের সহকারী খামার তত্ত্বাবধায়ক রবীন চন্দ্র শীলের কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। এ সময় বিপুলকে দেওয়া ১ হাজার টাকা ফেরত দেন তিনি।
প্রতিমা বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তানভীর রবীন চন্দ্র শীলের কাছ থেকে প্রতিমা দুটি ফেরত নেন বলে দাবি করেন। পরে সোমবার বিকেলে তিনি প্রতিমা দুটি দুমকি থানায় জমা দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিমা দুটি কীভাবে রাজাখালী সেতু এলাকায় গেল এবং মন্দির থেকে চুরি যাওয়ার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।
মন্দিরের সভাপতি গোকুল গোস্বামী বলেন, “হারিয়ে যাওয়া প্রতিমা ফিরে পেয়ে আমরা খুশি। আমরা মামলা-মোকদ্দমায় যেতে ইচ্ছুক নই।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ ইউসুফ কামাল বলেন, “আমি আশা করছি বাকি মালামাল উদ্ধারেও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।”
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, “প্রকৃত চোর না পাওয়ায় এবং বাদীপক্ষের কোনো দাবি না থাকায় প্রতিমা দুটি তাঁদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।”