ইমরান হোসাইন, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর উত্তরায় জমি ও বহুতল ভবনে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. মাসুম বিল্লাহ (৬০) বাউফল উপজেলার উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী। তিনি বাহির দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাউফল থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহির দাসপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে উত্তরা পশ্চিম ও বাউফল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ‘ব্রাইট ফিউচার হোল্ডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসামিরা ঢাকার উত্তরায় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তারা সাভারের ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইছারকান্দি মৌজায় অন্যের জমিতে ‘ব্রাইট সিটি’ নামে প্রকল্পের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমি বিক্রি এবং বহুতল ভবন নির্মাণের প্রলোভন দেখান।
এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করলে ৩৬ মাসে দ্বিগুণ অর্থ অথবা ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এভাবে কয়েক ধাপে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে ভুক্তভোগীরা উত্তরার অফিসে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. আবু সাঈদ বলেন, গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাসুম বিল্লাহর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বাউফল থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ রিকুইজিশনের মাধ্যমে সহযোগিতা চাইলে বাউফল থানা পুলিশ তাদের অভিযানে সহায়তা করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাসুম বিল্লাহ তাদের একজন।
তদন্তের স্বার্থে এবং অর্থ উদ্ধারের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।