সৈয়দ নুর আহসান
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকা থেকে মোমেনা বেগম (২৪) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোমেনা বেগম ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন দুবাইয়ে থাকার সময় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে মোমেনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়।বর্তমানে তিনি আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামী সোহাগ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন।
এরপর থেকে মোমেনা গৌরনদীর টরকী বন্দর এলাকায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের আপন ছোট বোন দিনা বেগম সঙ্গে ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
নিহতের ছোট বোন দিনা বেগম জানান, দেশে ফেরার পর থেকেই মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তার স্বামী সোহাগ। সোমবার বিকেলে জরুরি কাজে বাইরে গিয়ে রাতে ফিরে কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশে থাকা সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার বিষয়টি দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শাশুড়ি ও দেবর রাহাত রাঢ়ীর (১৭) সহযোগিতায় দরজা ভাঙেন।
ভেতরে ঢুকে তারা জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করছিল। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করেন, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার মা ও ছোট ভাই মিলে মোমেনাকে হত্যা করেছেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।