সাউথ বাংলা ডেস্কঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুরঘাটে ছাত্রদল নেতা সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চুকে মারধরের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের উপস্থিতিতে নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইউএনও।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ড. গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনওকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে অভিযানে যান ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। তাঁর সঙ্গে আনসার ও র্যাবের সদস্যরাও ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। এ সময় ইউএনও নিজের পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা জানান।
কথাবার্তার একপর্যায়ে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে র্যাবের এক সদস্য তাঁকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে চারবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রিশাল পৌর শহরের টিএমসি হাসপাতালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। সেখানে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ‘সরি’ বলেন।
সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বালুরঘাটের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে এবং ইউএনও নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “কাজে গিয়ে যা হয়েছিল, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। পরে যেন এ নিয়ে কোনো ঘটনার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে—এমন একটি আদেশ পেয়েছি।