
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা থেকে||
দিন-রাতের পরিশ্রমে পাকা ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু ফসল পাকতেই তা যেন লোভের চোখে পড়ল ভূমিদস্যুদের।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় একদল জোরদখলকারী প্রকাশ্য দিবালোকে এক কৃষকের ১৮ একর জমির ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের করিম বাজার এলাকায় বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা—দিনভর হারভেস্টার মেশিন নিয়ে ধান কাটতে দেখা যায় প্রতিপক্ষের লোকজনকে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. মামুন মিয়া, আটখালী গ্রামের বাসিন্দা, জানালেন—“১৮ একর জমিতে বর্গাচাষী দিয়ে ধান ফলিয়েছি। কিন্তু আমির হোসেন মোল্লা–আবুল মোল্লা–নজরুল মোল্লা সহ অন্তত ২০ জন লোক দল বেঁধে এসে সব ধান কেটে নিয়ে গেল।”
ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মামুন।
গলাচিপা থানার এসআই হাকিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি। দু’পক্ষকে শনিবার থানায় ডেকে বসার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারের তালিকা দীর্ঘ—
দেলোয়ার সরদার, আশরাফ আকন, আজিম মিয়া, ফারুক গাজী, মনির গাজী সহ অনেকে জানান—তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডিয় ও সরকার-বন্দোবস্তকৃত জমিতে চাষ করছেন। এই জমি নিয়ে আদালতে ৮৮৪/২৩ নম্বর মামলা চলমান। আদালত স্টে দিলেও প্রতিপক্ষ নাকি সেই আদেশও অমান্য করেছে।
দেলোয়ার সরদারের অভিযোগ, “স্টে অর্ডার থাকা সত্ত্বেও তারা ট্রাক নিয়ে এসে ধান কেটে নিয়ে গেল। বাধা দিতে গেলে আমাদের কয়েকজনকে মারধরও করেছে। প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ধান নিয়ে গেছে।”
অভিযুক্ত আমির হোসেন মোল্লা, আবুল মোল্লা, নজরুল মোল্লা—অভিযোগ সাফ অস্বীকার করেছেন।
তাঁদের দাবি, “এই জমির প্রকৃত মালিক আমরা। নিজের জমির ধানই কেটেছি।”
এসআই হাকিম বলছেন—“শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দু’পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।”
গলাচিপা থানার ওসি আসাদুর রহমান জানান—“ধান কাটার অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”