নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সকালের শান্ত নিস্তব্ধতা ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছিল এক অচেনা গন্ধ। পুকুরপাড়ের বাতাসে সেই গন্ধেই চমকে ওঠে বেনাপোলের ঘিবা গ্রামের মানুষ। কিছুক্ষণের খোঁজাখুঁজির পর দেখা যায়—রাস্তার পাশের ডোবার ভেতর পড়ে আছে এক যুবকের অর্ধগলিত দেহ। পরে জানা যায়, তিনি আলিম (৩৫), মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে।
নিহত আলিম শার্শার সাদিপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। বহুদিন ধরেই তিনি ঘর ছেড়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন, কারও দয়ায় খেতেন, আবার হারিয়েও যেতেন দিন কয়েকের জন্য।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা ডোবার ভেতর লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
আলিমের পরিবারের দাবি, তাকে কেউ হত্যা করেনি—দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অসহায় জীবনেরই হয়তো শেষ অধ্যায় এটি। তাঁর বড় ভাইও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন; কয়েক বছর আগে কক্সবাজারে রাস্তায় একইভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাঁর দেহ।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানিক কুমার সাহা বলেন, “আলিম দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বাভাবিক কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঘিবা গ্রামের মানুষ আজও সেই ডোবার পাশ দিয়ে হাঁটতে একটু থমকে দাঁড়ান। হয়তো ভাবেন—জীবনের কতগুলো দুঃখ একা বয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেল এক নির্জন ডোবায়।