সজিব সরদার, দুমকী থেকে...
বর্তমান সমাজে ভালো থাকা, ভালো চিন্তা করা এবং সৎ পথে হাঁটা যেন দিন দিন দুষ্কর হয়ে উঠছে। একদিকে অসৎ উপার্জন, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার আর স্বার্থপরতার দাপট; অন্যদিকে নৈতিক ও সৎ মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। ফলে সহজেই অনেকেই খারাপ পথে গিয়ে পড়ছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, খারাপ হওয়া সবসময়ই সহজ। কারণ এর পেছনে থাকে স্বার্থপরতা আর অস্থায়ী লাভের মোহ। অথচ ভালো মানুষ হতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য, নীতি এবং আত্মসংযম।
আজকাল ছোট-বড় সবার মধ্যেই ভোগবাদী মানসিকতার বৃদ্ধি স্পষ্ট। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একাংশ দ্রুত সাফল্যের আশায় শর্টকাট পথ বেছে নিচ্ছে। এ কারণে তাদের অনেকেই বিপদে জড়িয়ে পড়ছে। একসময় যেখানে সততা ও পরিশ্রমকে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ধরা হতো, সেখানে আজ প্রতারণা ও দুর্নীতিকে অনেকে ‘বুদ্ধিমত্তার নিদর্শন’ মনে করছেন।
মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ভালো থাকা মানে শুধু সৎ থাকা নয়, বরং অন্যের উপকার করা, ন্যায়ের পথে হাঁটা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কিন্তু এই পথ মোটেও সহজ নয়। চাপ, হুমকি আর সামাজিক বাধার মুখোমুখি হয়েই একজন সৎ মানুষকে টিকে থাকতে হয়।
তবে আশার আলোও আছে। এখনো অনেক তরুণ নৈতিকতার পতাকা উঁচিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের বিশ্বাস—কঠিন হলেও সৎ থেকে ভালো পথে চলার ফল একদিন সমাজের সামনে প্রতিফলিত হবেই।
সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি গণমাধ্যমেও নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো জরুরি। তাহলেই বদলানো সম্ভব এই প্রবাদের মতো বাস্তবতা—“ভালো হওয়া দুষ্কর, খারাপ হওয়া সহজ।”