নিজস্ব প্রতিনিধি||
তিন যুগ ধরে পাকা হয়নি রাস্তা। সংস্কার তো দূরের কথা, বর্ষা এলেই রাস্তাটি পরিণত হয় কাদার খালে। পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের জামলা আবাসন থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক যেন ১০ গ্রামের মানুষের জন্য এক নিত্যদিনের অভিশাপ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ আর রোগীদের জন্য প্রতিদিনই এই দুর্ভোগ যেন নতুন করে জন্ম নেয়।
রাস্তাটি শ্রীরামপুর, লেবুখালী, মুরাদিয়া ও মৌকরণ—এই চার ইউনিয়নের দশটি গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অফিসগামী কর্মচারী, অসুস্থ রোগী—সবার পথ একটাই।
কিন্তু এখন সেই পথ আর পথ নয়, বরং এক কাদামাখা অভিশাপ! রিকশা তো দূরের কথা, কুকুর পর্যন্ত সে পথ এড়িয়ে চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—শুধু বর্ষা নয়, শুকনো মৌসুমেও স্বস্তি মেলে না। তখন আবার শুরু হয় ইট-বালুবোঝাই অবৈধ মাহেন্দ্রা ও ট্রলির অবাধ দাপট। ক্ষয়ে যায় রাস্তার বুক। অথচ দেখার কেউ নেই।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মোশারেফ হাওলাদার জানালেন, “এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন অফিসে যাই। এখন আর যাওয়া যায় না। নেতাদের কত বলেছি, শুধু আশ্বাস, কাজের কিছু হয়নি।”
বায়তুল আমান দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, “ছাত্ররা কাঁদা মাড়িয়ে মাদ্রাসায় আসে। বই-খাতা ভিজে যায়। কাদামাখা কাপড়ে ক্লাস করে তারা। এটা কি কোনো শিক্ষার পরিবেশ?”
লতিফ মোহসেনা পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুল ইসলাম শাহিন খান বলেন, “তিন যুগেও এক হাত রাস্তা পাকা হয়নি! এখন এমন অবস্থা—রাস্তাটা যেন নয়, ধানক্ষেতের আইল।”
তবে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান সাউথ বাংলাকে বলেছেন, “চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ফান্ডে বরাদ্দ এলে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন –
“এই কথাও তো বহুবার শুনেছি! টাকা এলেই কি হবে? নাকি বর্ষার জলে ভেসে যাবে আবারও সব প্রতিশ্রুতি?”