পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি||
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আমের মৌসুম শুরু হতেই বাজার ভরে উঠেছে সুমিষ্ট ফলের ঘ্রাণে। কিন্তু এই মিষ্টির আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর এক সত্য—প্রতিটি কামড়ে শরীরে ঢুকছে বিষ!
ফলন ভালো হয়েছে এবার। কৃষি অফিস বলছে, প্রায় ১২০৯ হেক্টর জমির সাত লক্ষাধিক আমগাছে ফল ধরেছে। তবে আমের পরিচর্যায় কীটনাশকের ‘উৎসব’ চলছে জমজমাটভাবে।
লাভের নামে বিষের উৎসব
পাতা ঝরা ঠেকাতে আশ্বিনেই রাসায়নিক প্রয়োগ শুরু। তারপর সার, হরমোন, কীটনাশক ছিটানো হয় নিয়ম করে—মতান্তরে অন্তত ৫ থেকে ৬ দফা। হিসাব করলে গোটা উপজেলায় প্রায় ৪০০ দফা বিষ ছিটানো হয়েছে আমের ওপর!
বিকল্প আছে, তবু উপেক্ষিত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ নামের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি রয়েছে, যা ফলকে পোকামাকড় ও বিষমুক্ত রাখতে পারে। আম ছোট গুটির আকারে থাকতেই ব্যাগে ঢেকে দিলে কোনো কীটনাশক প্রয়োজন হয় না।
কিন্তু বাগানমালিক সাইদুর রহমান জানাচ্ছেন, “ব্যাগিং করতে গেলে খরচ অনেক বেশি, লাভ কমে যায়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান বলছেন, “চাষিরা লাভের হিসাবটা আগে দেখে, পরিবেশের চিন্তা পরে আসে। তাই তাঁরা সহজ রাস্তা হিসেবে বিষকেই বেছে নিচ্ছেন।”
ফল নয়, বিষের চাষ
বারবার বিষ প্রয়োগে দূষিত হচ্ছে মাটি, পানি ও বায়ু। হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য, জলজ প্রাণী, এমনকি আমাদের শরীরও।
শেষ প্রশ্ন
যদি জানা থাকে এই আমে বিষ, তবু কেন থামেন না কৃষক?
উত্তর খোঁজে ফিরছে পীরগঞ্জের বাতাস, বিষে বিষিয়ে ওঠা গন্ধে।