সঞ্জীব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী||
সাগরের ঝড়–জল জয় করে ফিরে এলেন। কিন্তু পাড়ে ভেড়ানোর আগেই হারিয়ে গেলেন নদীর গর্ভে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ঘাটে সোমবার সকালে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে পড়ে আল-আমিন (৩৫) নামের এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
জানাগেছে, মাছভর্তি ট্রলারটি সোমবার সকাল ৯টার দিকে সাগর থেকে ফিরে পৌঁছয় চরমোন্তাজ ঘাটে। মালিক আসাদুল প্যাদার এমবি আসাদুল ট্রলারে ছিলেন আরও কয়েকজন জেলে। নদী শান্ত। কিন্তু পন্টুনে নামার সময় রশি বাঁধতে গিয়ে হঠাৎ পিছলে পড়ে যান আল-আমিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পা পিছলে মাথায় আঘাত লাগে। সেকেন্ড খানেকের মধ্যে নদীর জলে মিলিয়ে যান তিনি। তার পর থেকেই খোঁজ নেই।
নিখোঁজ আল-আমিনের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামে। পেশায় পেশাদার জেলে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরাই যাঁর নিত্যদিনের রুটিন। ভাগ্যচক্রে, তীরে পা দেওয়ার আগেই সব শেষ।
দুর্ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা নিজেদের মতো উদ্ধার অভিযান চালান। কিন্তু নদীর স্রোত, কাদা আর গহীন জল সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। এখন চরমোন্তাজ ঘাটের পাড়ে নদীর দিকে তাকিয়ে শুধু অপেক্ষা—স্বজনদের, সহকর্মীদের, গ্রামের মানুষের।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, “উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। তারা এলেই পুরোদমে অভিযান শুরু হবে।”
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আল-আমিনের এক স্বজন বললেন, “সমুদ্রে গেলে ভয় পেতাম, কিন্তু কে জানতো পাড়েই সে ডুবে যাবে!”
এখন বুড়াগৌরাঙ্গের স্রোত শুধু মাছ নয়, একটা পরিবারে কান্নার গর্জনও বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।