সঞ্জীব দাস, গলাচিপা | নিজস্ব প্রতিবেদন
বর্ষা শুরু হতে না হতেই পটুয়াখালীর গলাচিপায় ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গু। এরই মধ্যে প্রাণ গেল এক কিশোরীর। মৃত কিশোরী বিথি দেবনাথ (১৬) চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সোমবার সকাল পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
বিথির পরিবার জানায়, গত শুক্রবার পেটে ব্যথা ও বমি হওয়ায় তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বরিশালে আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মৃত্যু হয় বিথির।
নিহত বিথি দেবনাথ ছিলেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বড় চৌদ্দআনী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা অশোক দেবনাথ ও চাচা অবনি দেবনাথের মুখেই শোকের ছায়া। বিথি উলানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়দের কথায়, “ডেঙ্গু এখন আর ঢাকার ব্যাপার নয়, আমাদের ঘরেও ঢুকে পড়েছে।”
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা বাকি ৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে রয়েছেন— পৌরসভার লিহা (১০), হনুফা বেগম (৪৫), কালিকাপুরের তাসফিহা (১৩), রাঙ্গাবালীর বেল্লাল হোসেন (২০) ও শারমিন (১৯), ডাকুয়ার তহমিনা (৩৫), উলানিয়ার ফরহাত হোসেন (২২), গজালিয়ার সুজন (১৪) এবং দশমিনার রনগোপালদির লাইলি বেগম (৩৮)।
প্রথমে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। তবে নিয়মিত চিকিৎসায় তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে রেড ক্রিসেন্টও। সংগঠনের গলাচিপা ইউনিটের টিম লিডার ফিরোজ মাহামুদ জানান, “আমরা ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়েছি। এবার টার্গেট স্কুল, কলেজ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। লিফলেট ও স্বাস্থ্যসেশন চলবে নিয়মিত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহামুদুল হাসান বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ফগার মেশিন, মশা মারার ওষুধসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”