ভোলা প্রতিনিধি||
জেলে পুনর্বাসনের চাল! ৮০ কেজি হওয়ার কথা, মিলছে ৬৫-৭০ কেজি! প্রশ্ন তুলতেই জেলেরা জোট বাঁধলেন, আর ঘেরাও করলেন ইউপি সচিবকে।
ঘটনাস্থল ভোলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়ন পরিষদ। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা। গরমে পুড়ছে চরাঞ্চল, তার মধ্যে ক্ষুব্ধ জেলেরা ইউনিয়ন পরিষদে হাজির। অভিযোগ—চাল কম, তালিকায় কারচুপি, আর চালের গন্ধেই স্বজনপ্রীতি!
ঘটনার কেন্দ্রে ইউপি সচিব আহিদুর রহমান। জেলেদের দাবি, সরকার থেকে নির্ধারিত ৮০ কেজি চাল দেওয়া কথা, অথচ সচিবের হাতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫-৭০ কেজিতে! তার উপর "আপনার লোক হলে চাল, নয় তো বাতিল!"—এমন অভিযোগও উঠেছে।
একজন জেলে বলেন, “আমরা সমুদ্রে যাচ্ছি না সরকারের কথায়। ঘরে বসে থাকি, এই চালই একমাত্র ভরসা। সেটাও ঠিকমতো পাচ্ছি না!”
অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি হয় তখনই। সচিব আহিদুর রহমান এক পর্যায়ে পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে নিজেই ‘আটকে’ পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, পরিস্থিতি সামাল দেয়।
তবে সচিবের বক্তব্য একেবারেই উল্টো—“সব কিছু নিয়ম মেনে দিয়েছি। কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র।”
এই ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিয়ে কিন্তু একমত নন চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু। তিনি স্পষ্ট বলেন, “চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি জেলে ৮০ কেজি চাল পাবেন, এটাই নিয়ম।”
আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা সারমিন মিথির হুঁশিয়ারি, “তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গ্রামের মানুষ এখন চায় একটাই—চাল নিয়ে আর খেলাধুলা নয়, পাতে চাল চাই পুরোটা, হক অনুযায়ী। নয়তো আরও গর্জে উঠবে চরাঞ্চলের মানুষ।