নিজস্ব প্রতিবেদক||
কোরবানির ঈদ আর ক’দিন বাকি! এর মধ্যেই পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD)’। সংক্রমণ বাড়ছে, মারা যাচ্ছে বাছুর, উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুধ—সব মিলিয়ে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে স্থানীয় খামারিরা।
শরীরে জ্বর দিয়ে শুরু, এরপরই দেখা দেয় গুটি। কয়েকদিনের মধ্যে সেই গুটি রূপ নেয় ঘায়ে। আক্রান্ত গরুর চামড়া পচে যায়, মাংসের গুণগত মানও নষ্ট হয়। তাই গরু সুস্থ হলেও কোরবানিযোগ্য থাকে না—এতেই বড় বিপাকে খামারিরা।
শ্রীরামপুরের খামারি আব্দুল জলিল জানান, “একটি শাহী ওয়াল গরু আক্রান্ত হয়েছে। চামড়ার অনেক জায়গায় পচন ধরেছে, চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি।”
রুপাশিয়ার এখলাছ ও মোতালেব জানান, “দুইটি বাছুর মারা গেছে। সংক্রমণ থামছেই না।”
খামারি সহিদুল বলেন, “এই রোগ হলে ঈদের বাজারে গরু তুলতে পারব না।”
দুমকী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশিক হাজরা জানান, “সরকারি পর্যায়ে এখনও LSD’র নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন নেই। গোট পক্সের টিকা কিছুটা কাজ করে, তবে সেটিও সঙ্কটে।”
চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে অ্যান্টিপাইরেটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ঘা হলে স্থানিক ড্রেসিং। তবে রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি—আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখা, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খামার পরিবেশ।
প্রাণিসম্পদ দফতর বলছে, সময়মতো চিকিৎসা ও সতর্কতায় ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে। তবে ঈদের বাজার সামনে রেখে এখনই দরকার সচেতনতা ও জরুরি ভ্যাকসিন সরবরাহ—না হলে এই ‘লাম্পি আতঙ্ক’ বড় ধাক্কা দিতে পারে কোরবানির পশুর জোগানে।