নিজস্ব প্রতিবেদক||
গবেষণার টানে পাড়ি জমিয়েছিলেন আটলান্টিকের ওপার—স্বপ্ন ছিল পিএইচডি শেষ করে ফিরবেন দেশের মাটিতে, ছাত্রদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা। কিন্তু শিব নাথ পাট্টাদারের সে ফেরার ট্রেন আর স্টেশনে ঢুকল না। বরং সময়ের সাঁঝে তার নামে এলো একেবারে বরখাস্তের কালো খবর।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন তিনি। ছিলেন—কারণ বৃহস্পতিবার এক অফিস আদেশে তার চাকরির অধ্যায় রীতিমতো ইতি টানা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, শিব নাথ পাট্টাদারের বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘ অনুপস্থিতি, অনুমোদনহীন ছুটি নেওয়া ও প্রশাসনিক আদেশ অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ।
সূত্রের খবর—২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে পেলেন দুই বছর চার মাসের পূর্ণ বেতনের শিক্ষা ছুটি। তারপর অসমাপ্ত গবেষণার দোহাই দিয়ে চাইলেন আরও সময়—এক বছর অর্ধ বেতন, আর এক বছর বিনা বেতনে। সব মিলিয়ে চার বছরেরও বেশি সময় গেল ছুটির ছায়ায়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও পাট্টাদার মশাই আর কর্মস্থলে ফিরলেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট পাঠায় কারণ দর্শানোর নোটিশ। না, কোনো উত্তর এল না। এরপর আরও দুই দফা চিঠি, কিন্তু পোস্টবক্স থেকে জবাবের দানা উঠল না। একেবারে চুপচাপ!
অবশেষে বিষয়টি তোলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়—এই অধ্যাপক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে ফিরতে পারবেন না।
অফিস আদেশে আরও জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী এই বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে তার ভোগ করা শিক্ষা ছুটির সব সুবিধা ও অর্থ ফেরত দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে।
আনুষ্ঠানিকতার মোড়কে একুশ শতকের বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকলেও, দায়-দায়িত্বের খাতায় তার উপস্থিতি শূন্য। আর এমন অদৃশ্য উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত তাকে পৌঁছে দিল চাকরি হারানোর ঘোষণাপত্রে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডির ডিগ্রিও আর ঢাল হয়ে উঠতে পারল না।