নিজস্ব সংবাদদাতা, চরফ্যাশন:
সন্ধ্যার পর চরফ্যাশনের রাস্তায় যদি হঠাৎ নৌবাহিনীর পোশাক দেখা যায় আর সঙ্গে পুলিশের সিগন্যাল—তবে বুঝে নিতে হবে, আজ আর হেলমেট ছাড়া ‘সেলফি-রাইড’ চলবে না!
রোববার (১৮ মে) রাত আটটায় চরফ্যাশনের বিআরডিবি সড়ক যেন রণক্ষেত্র নয়, রীতিমতো নিয়মের পরীক্ষার মঞ্চে রূপ নেয়। নৌবাহিনী আর ট্রাফিক পুলিশের যৌথ অভিযান—চেকপোস্ট বসিয়ে শুরু হয় হেলমেট-হান্টিং!
মোটরসাইকেল থেকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস থেকে ইজি বাইক—কোনও যানই রেহাই পায়নি। চালকের হাতে হেলমেট না থাকলে কিংবা লাইসেন্স ‘ঘরে রেখে আসা’ হলে, জরিমানার থার্মোমিটার সঙ্গে সঙ্গে লাল!
ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই নাইমের কণ্ঠে ছিল দৃঢ় বার্তা:
“আমরা মোটরসাইকেল আরোহীদের বেশি করে ধরছি, কারণ এঁরাই হেলমেট পরে না, আবার গ্যাস খেয়ে ওভারস্পিডে উড়ে চলে!”
নাইমবাবুর কথায় ছিল নিরপত্তার সংকল্প, “চরফ্যাশনের মানুষ যেন নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারে, শিশু-বৃদ্ধেরা যেন ধাক্কা খেয়ে পাঁজর না ভাঙে—এই চিন্তাতেই আমরা রাস্তায়।”
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক বাইকার, যাঁর হেলমেট সেদিন 'ঘরের সোফায় বিশ্রামে' ছিল, তিনি বলেন, “নৌবাহিনী দেখে ভেবেছিলাম যুদ্ধ শুরু হয়েছে, পরে বুঝলাম, এটা হেলমেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ!”
নিরাপত্তার এই যৌথ অভিযান ঠিক কত দিন চলবে, তা জানা যায়নি। তবে চরফ্যাশনের মানুষ আপাতত বুঝে গেছেন, হেলমেট না থাকলে গন্তব্য হতে পারে থানা, আর পকেট হতে পারে ফাঁকা!