ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোর সাড়ে ছ’টা। ঘুম ভাঙার আগেই প্রকৃতি যেন চেপে বসে মনপুরার আকাশে। কালবৈশাখীর হঠাৎ তাণ্ডবে ঝরো হাওয়া, সঙ্গে ভয়ানক বজ্রপাত। আর সেই বজ্রই কেড়ে নিল কৃষক মো. আলাউদ্দিন মাঝির একমাত্র সম্বল—দুটি গরু।
ঘটনাস্থল ভোলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড। শনিবার (১৭ মে) ভোরে কৃষক আলাউদ্দিনের গোয়ালঘরে পড়ে বজ্রপাত। মুহূর্তেই নিস্তেজ হয়ে যায় একটি গাই গরু ও একটি বাছুর।
গরুগুলোর পাশে বসে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন আলাউদ্দিনের স্ত্রী ও সন্তানরা। মুখে শুধু একটাই কথা, “এই দুইটাই ছিল আমাদের সবকিছু... কীভাবে চলবে এখন?”
আলাউদ্দিনের হিসেব, প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি। আর সেই ক্ষতি শুধু টাকায় নয়, জীবনের লড়াইয়ে এক ধাক্কা।
ঘটনার খবর পেয়েই সরব প্রশাসন। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারিভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এহেন আঘাত শুধু এক পরিবারের উপর নয়—এই ঘটনা যেন গোটা গ্রামের কানে বাজিয়ে দিল, জীবন-জীবিকার কতটা নাজুক অবস্থায় আছেন দেশের প্রান্তিক কৃষকরা।
একটানা কাজ, পশুর পেছনে মমতা আর ভরসা—সব এক নিমেষে ছারখার। বেঁচে থাকা শুধু নয়, ঘুরে দাঁড়ানোই এখন চ্যালেঞ্জ আলাউদ্দিনের জন্য। অথচ এই একটি গরু আর একটি বাছুরই ছিল তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
আকাশে এখনো মেঘ, কিন্তু মনপুরার কৃষক পরিবারগুলোর চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—পরের বজ্রপাতটা কাকে গিলবে?