ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামে ছেলের চুরির অভিযোগে এক নারীকে ‘নাকে খত’ দেওয়ানোর ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদ্য বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তার নামসহ মোট ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম ফেনী মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার (৭ মে) রাতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ মে রাতে মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামের খালুর দোকানসংলগ্ন একটি খোলা স্থানে সালিশ বৈঠকের নামে সাজেদা বেগম ও অপর এক নারী জোহরা বেগমকে ছেলেদের চুরির অভিযোগে প্রকাশ্যে 'নাকে খত' দিতে বাধ্য করা হয়। প্রতিবাদ করায় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন লাঠি দিয়ে সাজেদা বেগমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করেন।
ভুক্তভোগী সাজেদা বেগমের অভিযোগ, এর আগে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার শুভং ব্রিক ফিল্ড ত্রিমোড় এলাকা থেকে তার ছেলে রাকিব হোসেনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দেলোয়ার হোসেন দেলু ছাড়াও উল্লেখ করা অন্যান্য আসামিরা হলেন: জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ রিসাল, মাইনুদ্দিন বেনু, গিয়াস উদ্দিন, মাইনুদ্দিন সোহাগ ওরফে পচা সোহাগ, মোহাম্মদ আজাদ ওরফে ডাকাত আজাদ, অনিক, সামসুর রহমান লাভু, ইব্রাহিম খলিল, বাইট্টা নেজাম, মাইনুদ্দিন জসিম ও সোহেল।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কিছু লোকের সামনে দুই নারীকে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং একপর্যায়ে তাদের নাক ঘষতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলুকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, "একজন ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নেবে না। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, "এ ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এই ঘটনায় ফেনীতে নারী নির্যাতন ও সামাজিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।